শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৯

মিয়ানমার পরিস্থিতি

নিরাপত্তা বাহিনীর জালে আটক বিক্ষোভকারীরা ছাড়া পেয়েছে

নিরাপত্তা বাহিনীর জালে আটক বিক্ষোভকারীরা ছাড়া পেয়েছে
গণতন্ত্রের দাবিতে গতকাল মিয়ানমারের সিতাং নদীতে নেমে প্রতিবাদ জানায় আন্দোলনকারীরা -এএফপি

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের একটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটকেপড়া প্রায় ২০০ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারী মুক্তি পেয়েছেন। আটকে পড়া বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে মুক্তি দিতে সেনা সরকারের প্রতি পশ্চিমা বিশ্ব ও জাতিসংঘের আহ্বানের পর গতকাল সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে ইয়াঙ্গুনের একটি এলাকায় এসব বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রেখেছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

রয়টার্স জানায়, ইয়াঙ্গুনের সানচুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁদে আটকাপড়া এসব তরুণের সমর্থনে রাতেই কারফিউ উপেক্ষা করে কয়েক হাজার লোক শহরটির রাস্তায় নেমে আসে। এই তরুণরা ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এই সানচুং এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন। বিবিসি জানায়, সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী চার রাস্তার এলাকা সানচুং ঘিরে ফেললে ভিতরে প্রায় ২০০ জন তরুণ প্রতিবাদকারী আটকা পড়েন। পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, বাইরে থেকে এসে কেউ এলাকার বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রত্যেক বাড়িতে তল্লাশি চালাবে তারা এবং তাদের লুকিয়ে রাখার কারণে যারা ধরা পড়বে তাদেরও শাস্তি হবে। এই অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা  জানিয়েছেন। ইয়াঙ্গুনের সানচং জেলার মানুষ কারফিউ উপেক্ষা করে রাতে রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে যাতে করে আটকেপড়া বিক্ষোভকারীরা নিরাপদে বের হয়ে যেতে পারেন। তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে নিরাপত্তা বাহিনী।

সেনাশাসকদের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোমবার ধর্মঘটের ডাক দেয় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড ইউনিয়নগুলো। ধর্মঘটের ফলে বন্ধ থাকে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের দোকানপাট, কলকারখানা। নির্মাণ, কৃষি ও পণ্য উৎপাদনসহ অন্তত ৯টি খাতের ট্রেড ইউনিয়ন ধর্মঘটে অংশ নেয়। এছাড়া আইন প্রয়োগের অজুহাতে হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী।

আটকেপড়া বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে মুক্তি দিতে সেনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানান। সহিংসতা এবং গ্রেফতার ছাড়াই আটকেপড়াদের নিরাপদে বের হয়ে যেতে দেওয়ার আহ্বান জানান তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। তিনি বলেন, ‘আটকেপড়া অনেকেই নারী, তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেয়।’

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। গত পরশুর ঘটনার পোস্ট দিয়ে জান্তাবিরোধী আন্দোলনের এক কর্মী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সরে যাওয়ার পর ভোর ৫টার দিকে ওই এলাকা ছেড়ে আসতে পেরেছেন তিনি।

সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী গুলোর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপে এ পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি প্রতিবাদকারী নিহত ও ১৮০০ জনেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছেন বলে আইনজীবীদের একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে।