শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

সক্রিয় রাজনীতি ছাড়তে চাই: তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

সক্রিয় রাজনীতি ছাড়তে চাই: তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত

এবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে অব্যাহতি চাইলেন পশ্চিমবঙ্গের বারাসত বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক (এমএলএ) অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই তিনি তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির কাছে জানিয়েছেন।

বারাসতের দুই বারের বিধায়ক চিরঞ্জিত জানান, ‘আমার এখন বয়স হয়ে গিয়েছে, এবার একটু বিশ্রাম চাই। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাই।’ যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে গেলেও অন্য কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন চিরঞ্জিত।

সামনেই রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন, তার আগে এভাবে তৃণমূল বা রাজনীতির প্রতি দলের নেতাদের এই অনীহা নিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল।

ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, নেতা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে নাম লিখিয়েছেন। কেউ আবার মন্ত্রিত্ব বা সাংসদ পদ ছাড়লেও তৃণমূল দলটা ছাড়েননি। আবার কোন কোন তৃণমূল নেতা সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। 
মাস খানেক আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব ব্যানার্জির মতো সাবেক মন্ত্রীরা। তাদের সাথেই দল ছেড়েছে একাধিক বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধানরা।

গত শুক্রবার রাজ্যসভার অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আচমকা সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদি। সেসময় তার অভিমত ছিল ‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ যদিও তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেননি তিনি। তবে শোনা যাচ্ছে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী।

ইতমধ্যেই গত মঙ্গলবার রাজ্যসভার সাবেক তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সাথে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ’ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত সাক্ষাত নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। মিঠুন জানিয়েছেন, ‘ভাগবতের সাথে আমার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। লখনউতে ভাগবতজীর সাথে আমার দেখা হয়েছিল, সেসময় মুম্বাইয়ে আসলে আমার বাড়িতে তাকে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।’ যদিও মিঠুনের এই বক্তব্যে জল্পনার নিষ্পত্তি হয়নি।

ওইদিন রাতেই তৃণমূলের পক্ষে অস্বস্তি হয়ে দাঁড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সাথে বিজেপি নেতা ও শ্যমাপ্রসাদ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সদস্য ড: অনির্বাণ গাঙ্গুলীর সাক্ষাৎকার। নিজের লেখা ‘অমিত শাহ অ্যান্ড দ্য মার্চ অব বিজেপি’ শীর্ষক একটি বইও প্রসেনজিতের হাতে তুলে দেন অনির্বাণ। প্রসেনজিতের সাথে বিজেপি নেতার এই হঠাৎ-সাক্ষাৎকার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। মিঠুন, প্রসেনজিৎ-কে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই বুধবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান টালিগঞ্জের প্রথম সারির অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত। যশের সাথেই বিজেপিতে যোগ দেন পাপিয়া অধিকারী, সৌমিলি বিশ্বাসসহ আরও অনেকে। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর