Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৭

বাবা খুনি, মেয়ে সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাবা খুনি, মেয়ে সাক্ষী

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় দুই বছরের শিশু আয়েশা মণি হত্যায় জান্নাতুল ওয়াইশ ওরফে নাহিদকে (৪০) অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। আর এ ঘটনায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নাহিদের মেয়ে বুশরা। বৃহস্পতিবার আয়েশা মণি হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির এসআই সাদেকুর রহমান এ চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে একমাত্র আসামি করা হয়েছে নাহিদকে। তার বাসা গেন্ডারিয়ার ৫৩/১-ছ দীননাথ সেন রোডে।  জানা যায়, দীননাথ সেন রোডে চারতলা বাড়ির পাশে টিনশেড বস্তিতে আয়েশাদের বাসা। মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে থাকত শিশু আয়েশা। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে বের হতেন। আর সারাদিন গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে খেলে সময় কাটত ওই শিশুর। অন্য দিনের মতো গত ৫ জানুয়ারি   বিকালেও খেলতে বের হয় আয়েশা। সে হাবিবের রিকশা গ্যারেজের পূর্ব পাশের গলিতে খেলাধুলা করছিল। মাগরিবের নামাজের আগে নাহিদ সেখান থেকে আয়েশাকে বাসায় ডেকে নিয়ে তিনতলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেন। গুরুতর আহতাবস্থায় দ্রুত আয়েশাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন। পিবিআই সূত্র জানায়, ওইদিন বিকালে আয়েশার মা সুলতানা রান্না করার জন্য পাশের বাড়িওয়ালার বাসায় যান। ঘরে চার সন্তানকে তিনি রেখে যান। সুলতানার বড় মেয়ে ইরা তার তিন বোনকে নিয়ে খেলছিল। খেলার এক পর্যায়ে আয়েশা মনি খাবার খেতে চায়। তখন ইরা ছোটবোন আয়েশাকে নিয়ে তার মায়ের কাছে যায়। তাদের মা বাসায় গিয়ে আগের রান্না করা খিচুড়ি খেতে দেয়। আয়েশা মনি বাড়ির উঠানের দিকে বাইরে রাস্তার পাশে মাটিতে বসে খাবার খেতে খেতে পুতুল নিয়ে খেলছিল। ঠিক মাগরিবের নামাজের আগে নাহিদ তার বিল্ডিংয়ের নিচতলার গেটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। নাহিদ মাগরিবের নামাজের কোনো এক সময়ে আয়েশাকে গ্যারেজের সামনের রাস্তা থেকে কোলে করে বাসার তিনতলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এ সময় বাসায় নাহিদের মেয়ে ফাতিহা খান বুশরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা দেখছিল। মূলত নাহিদ যৌন নিপীড়ন করার উদ্দেশ্যে আয়েশাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বাসায় নেওয়ার পর আয়েশা তার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছিল। এ সময় নাহিদের মেয়ে বুশরা ওই মেয়ের কান্না শুনতে পেয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করেন মেয়েটি কে? নাহিদ তখন বুশরাকে ধমক দিয়ে বাইরে যেতে বলে। কিছু সময় পর নাহিদ বাচ্চাটিকে নিয়ে বারান্দার দিকে যেতে থাকলে বুশরা তার বাবার পিছে পিছে যায়। একপর্যায়ে বারান্দার কোনায় নিয়ে নাহিদ বাচ্চাটিকে কোল থেকে নিচে ফেলে দেয়। এ সময় বুশরা তা দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠে। এ বিষয়ে নাহিদের মেয়ে বুশরা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।


আপনার মন্তব্য