অস্তিত্ব সংকটে দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের একসময়ের জীবনজীবিকার উৎস খরস্রোতা ছোট যমুনা নদী। খনন না হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানি থাকে না। উজানের বয়ে আসা পলিমাটি জমতে জমতে নদীর তলদেশ সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে চাষ হচ্ছে ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নদীটি চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি নামক স্থানে ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়ন অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলা হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু দূর প্রবাহিত হয়ে আবারও বাংলাদেশের নওগাঁর আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৮৫ মিটার। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এ নদীর পানি দিয়ে চলত এই অঞ্চলের কৃষকের চাষাবাদ। নদীর মাছ ধরে জেলেরা জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে নদীতে পানি না থাকায় এ অঞ্চলে দেশি মাছের অভাব দেখা দিয়েছে। বর্ষা পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে নদীর দুই পাশে শস্য আবাদ করতে পারছেন না কৃষকেরা। নদীর নাব্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীর প্রশস্ত দিনদিন কমে সরু খালে পরিণত হচ্ছে।
মুকুল সরকারসহ নদী তীরবর্তী এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদীটির নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নদীর পার দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছেন দালানকোঠা। নদীতে ফেলা হচ্ছে পৌর শহরের ময়লা আবর্জনা। পরিবেশ রক্ষার্থে নদীটি সংস্কার করে পানি ধরে রাখা হলে শুধু কৃষি কাজেই উপকার হবে তা না, এখানে দেশি মাছের অভাবও পূরণ হবে। খননসহ রাবার ড্যাম নির্মাণ করে নদীতে বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার দাবি জানান তারা। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য ছোট যমুনা ও ইছামতী নদী খনন করার প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।