বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী একেকটি রঙ, যাকে আমরা বলেছি রেইনবো ন্যাশন। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বাঙালি-অবাঙালি সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকরা মিলেমিশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। সেজন্য নিরাপদ দেশ গড়তে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির পক্ষে ভোট চাই।
আজ শনিবার বিকালে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে এ সমাবেশে ১২ জেলার ৩৪ জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ১ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ট্রাইবাল ট্রাস্ট গঠন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং নারীদের অধিকার নিশ্চিতসহ চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলেন তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমর্থন ও সহায়তা চান তিনি।
সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, এই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি সংরক্ষণের স্বার্থে আপনাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নিজেদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার চর্চা ও প্রয়োগেও সমানভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। শিক্ষা-দীক্ষাসহ ঐক্যবদ্ধভাবে সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করার জন্য ২০০৭ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ ও সংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ও সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠী নিজের ও নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যদি সচেতন থাকে তাহলে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু কিছু নেই। সবাই সমান।
নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রবাদের কথা বলে দেশকে বিভক্ত করতে চায় একটি গোষ্ঠী। এমন অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের রুখে দিতে হবে।
সমাবেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা বলেন, ইকোপার্ক প্রকল্প বা বন রক্ষার নামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। এখনো মেলেনি ভূমির অধিকার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়, পৃথক ভূমি কমিশন এবং সংসদে সংরক্ষিত আসন নিশ্চিতের দাবি করেন তারা।
এর আগে, জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সদস্যরা। বেলা ২টা ৫০ মিনিটের দিকে মির্জা ফখরুল অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে নিজেদের ঐতিহ্য মেনে তাকে বরণ করেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যেরা। এরপর মঞ্চে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতেই বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের পাঠ শেষে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত ও বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জন জেত্রার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ