Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মে, ২০১৯ ১১:৫১

ওমান থেকে দেশে ফিরতে চান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জুবায়ের, বিমানের অপারগতা

এইচ এম হুমায়ুন কবির, মাস্কাট (ওমান)

ওমান থেকে দেশে ফিরতে চান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জুবায়ের, বিমানের অপারগতা

গোল্ডেন বয় কিংবা রেমিটেন্স যোদ্ধা কোনো উপাদিই চায় না জুবায়ের। তার আকুতি অন্তত আপনজনদের কাছে গিয়ে মরতে চান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জুবায়ের। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার টগবগে প্রাণবন্ত এক তরুণ যুবক জুবায়ের। মাত্র কয়েকমাস পূর্বে দেশ থেকে নতুন বিয়ে করে ওমানে এসেছেন। ওমানের জালান বনি বু আলী টেইলারিং দোকানে সেলসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। আসার পর থেকেই অসুস্থতা বোধ করার কারণে দেশে চলে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট নেয়া হয়। কিন্তু যাওয়ার আগের দিন রাত্রেই ৯ এপ্রিল তিনি স্ট্রোক করেন। দীর্ঘ ২৫ দিন সুর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

দীর্ঘ পঁচিশ দিন চিকিৎসা শেষে জ্ঞান ফিরে আসে তার। কিন্তু স্ট্রোকে তিনি হারিয়েছে তার বাকশক্তি, চিন্তাশক্তি ও অন্যের সাহায্য ছাড়া চলা ফেরার শক্তি। ওমানে চিকিৎসার ব্যায় বহুলতার কারণে নিজ দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমান কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে দুইজন সহযোগীসহ গত ৫ মে দেশে নেয়ার জন্যে এয়ারপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বিমানে ভ্রমণ করতে কোন অসুবিধা হবে না মর্মে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অনুমতি থাকার পরেও লম্বা নিয়ম কানুন দেখিয়ে বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন বিমান।

দ্যা কিং জালান ট্রেডিং এর চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের বড় ভাই আব্দুল হান্নান এই প্রতিবেদককে জানান, জুবায়েরের চিকিৎসা ব্যয় থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট এবং প্রায় পাঁচশত কিলোমিটার দূর থেকে গাড়িতে করে এয়ারপোর্টে নিয়ে আসার খরচ সব কিছুই সংগ্রহ করা হয়েছিল স্থানীয় প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমান রোগী বহনও করলো না। উপরন্তু ৩০ হাজার টাকার মতো চার্জ কেটে রেখেছে। অন্যদিকে গাড়ির ভাড়া, তিনজন লোক এতো দূর থেকে পুনরায় গাড়ি নিয়ে ফেরত আসা, সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার মতো বৃথা খরচ করে বিশাল অর্থ সংঙ্কটে পড়েছে অসহায় এই প্রবাসী। খবর রয়েছে, অর্থের অভাবে এখন তিন বেলা খেতে পরতেও কষ্ট হচ্ছে এই রেমিটেন্স যোদ্ধার। তাছাড়া বিদেশের বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে সার্বক্ষণিক সেবা দেয়ার জন্যও নেই তেমন কেউ। 

ডাক্তার বলছেন, যদি দ্রুত দেশে ফেরত নিয়ে উন্নত চিকিৎসা না দেয়া হয় তাহলে তিনি হয়তো আর কোন দিনই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। 

বর্তমানে তিনি খুবই অসহায় অবস্থায় প্রতিটি দিন ও রাত অতিবাহিত করছেন বলে জানা গেছে। অসহায় এই প্রবাসীকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করতে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিমান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন অসহায় এই ভুক্তভোগীর পরিবার।

বিডি-প্রতিদিন/১৬ মে, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য