নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের অনন্য সৌন্দর্য ও রহস্যময় দৃশ্যপট নিয়ে আমাদের মুগ্ধ করে চলেছে। এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা গেছে, তারকা জন্ম ও ধ্বংসের প্রক্রিয়া, যা মহাবিশ্বের গতিশীল প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
খবর অনুসারে, ৭,৬০০ আলোকবর্ষ দূরের কারিনা নেবুলার মতো তারকা-প্রসবী অঞ্চল থেকে শুরু করে অরিয়ন নেবুলার তারকা গঠনের বিস্ময়কর দৃশ্য এবং আইসি ২১৬৩ ও এনজিসি ২২০৭-এর মতো দূরবর্তী গ্যালাক্সির চিত্র—সবকিছুই মহাকাশ গবেষণার গভীরতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
কারিনা নেবুলা প্রায় ৭,৬০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। নাসার মতে, একটি তারকা তৈরির কেন্দ্র। নেবুলাগুলো মূলত ধূলিকণা ও গ্যাস দিয়ে গঠিত। মহাকর্ষের প্রভাবে এই উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে বড় গুচ্ছ তৈরি করে। যখন এই গুচ্ছটি খুব বড় আকার ধারণ করে, তখন তা নিজস্ব মহাকর্ষে সংকুচিত হয় এবং কেন্দ্রে থাকা উপাদান উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এর থেকেই একটি তারকার জন্ম হয়।
তারকা জন্মের এই প্রক্রিয়া খুবই তীব্র, যা প্রচণ্ড অতিবেগুনি রশ্মি তৈরি করে। এটি নেবুলার গ্যাস মেঘের মধ্যে ফাঁকা স্থান তৈরি করে এবং গ্যাসের স্তম্ভগুলোকে ক্ষয় করে। এই প্রক্রিয়াই কারিনা নেবুলার মতো নৈসর্গিক দৃশ্যপট তৈরি করে।
শার্পলেস ২-১০৬ নামের নেবুলা একটি উদাহরণ যেখানে গরম গ্যাস ও ধূলিকণা একটি মনোমুগ্ধকর আকার ধারণ করেছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই নেবুলার তারকাগুলো এর অভ্যন্তরের গরম উপাদান এবং ঠান্ডা আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমের সঙ্গে ক্রিয়া করে এর আকৃতি তৈরি করেছে।
হাবল টেলিস্কোপের তোলা এসব চিত্র আমাদের শুধু মহাবিশ্বের সৌন্দর্যই উপভোগ করতে দেয় না, বরং তারকা জন্ম ও গঠনের জটিল বিজ্ঞান বুঝতে সাহায্য করে। মহাবিশ্বের এই নিখুঁত নকশা গবেষণায় হাবল একটি অমূল্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল