শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৪৫

ইতালির প্রতিশোধ স্পেনের বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক

ইতালির প্রতিশোধ স্পেনের বিদায়
Google News

অসাধারণ এক লড়াই। দুই কোচের কৌশলের লড়াই। ¯œায়ুর লড়াই। নাছোড়বান্দা হয়ে মাঠে টিকে থাকার লড়াই। স্পেন-ইতালি সেমিফাইনাল শেষ হলো টাইব্রেকারে। নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার পর ১-১ ব্যবধানে ড্র ম্যাচটা পেনাল্টি শুট আউটে ইতালি জিতল ৪-২ ব্যবধানে। উচ্ছ্বাসে ভাসল ইতালিয়ান ফুটবলের সমর্থকরা। তবে বিদায়ী স্পেনও ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মন জয় করেই বাড়ির পথ ধরল।

ইউরো কাপে ২০০৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল শূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ইতালিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন। ২০১২ সালের ইউরো কাপে ফাইনালে ৪-০ গোলে স্প্যানিশদের কাছেই পরাজয় স্বীকার করেছিল আজ্জুরিরা। এরপর ২০১৬ সালের ইউরো কাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনকে হারায় ইতালি। এবার সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নির্মমভাবে স্পেনকে হারাল তারা। স্পেনীয়দের কাছে টানা দুই ইউরো কাপে (২০০৮ ও ২০১২) পরাজয়ের কঠিন প্রতিশোধই নিল ইতালি!

ইতালি-স্পেন ফুটবলীয় লড়াই কঠিন হবে, এটা জানা ছিল দুই দলের কোচেরই। স্প্যানিশ কোচ ম্যাচের শুরুতে কৌশল বদলে দলকে মাঠে পাঠান। দুই উইংয়ে শক্তি বাড়িয়ে দেন তিনি। এতে ইতালির প্রতিরোধ কৌশল অনেকটাই ভেঙে পড়ে। মাঝমাঠে ইতালির দখল কমে যায়। কিন্তু স্পেনীয় কোচের কৌশল ধরতে খুব বেশি সময় লাগেনি ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানসিনির। তিনিও প্রয়োজন মতো রণকৌশল বদলে নেন। এরপরই খেলাটা সমানতালে চলতে থাকে। ম্যাচের প্রথমদিকে কিছুক্ষণ স্প্যানিশ আধিপত্য চললেও তা শেষ করে দেন কিয়েল্লিনিরা।

দুটো দলই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেলতে শুরু করে প্রথমার্ধের শেষভাগ থেকে। বল ধরে রাখার খেলায় স্পেন এগিয়ে ছিল ৭১-২৯ ব্যবধানে! পাসিং ফুটবলেও স্পেন যোজন যোজন এগিয়ে (৯০৮-৩৮৭)। এমনকি প্রতিপক্ষের গোলমুখে আক্রমণের সংখ্যাতেও এগিয়ে ছিল স্পেন (১৬-৭)। কেবল জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গোলটাই করতে পারলেন না আলভারো মোরাতা।

ফেডেরিকো চিয়েসার গোলে ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। ২০ মিনিট পর আলভারো মোরাতার গোলে সমতায় ফিরে স্পেন। ম্যাচে গোল করলেও পেনাল্টি শুট-আউটে ব্যর্থ হলেন মোরাতা। তার শট রুখে দিয়ে ইতালির কাছে বীর বনে গেছেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইগি ডোনারুম্মা।

ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানসিনি ফাইনাল নিশ্চিত করার পর বলেছেন, ‘আমরা আনন্দিত। ইতালির মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস এনে দিতে পেরেছি। জানতাম, ম্যাচটা কঠিন হবে। স্পেন আমাদের পথ অনেক কঠিন করে তুলেছিল।’ স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েও অসন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, ‘আমার দলের ফুটবলাররা যেমন পারফরম্যান্স করেছে সেজন্য তাদেরকে আমি ভালো নম্বরই কেবল দিতে পারি। এমন অসাধারণ এক ম্যাচের পর আমি তাদের সমালোচনা করতে পারি না।’