শিরোনাম
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা
প্লে-অফে চট্টগ্রাম

বড় তামিমের মাঠে ছোট তামিমের তান্ডব

বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি

মেজবাহ্-উল-হক, চট্টগ্রাম থেকে

বড় তামিমের মাঠে ছোট তামিমের তান্ডব

জেসন হোল্ডারের বল কাভার এবং পয়েন্টের মাঝে দিয়ে আলতো করে ঠেলে দিয়েই যেন বিদ্যুৎ গতিতে প্রান্ত বদল করলেন! শূন্যে ব্যাট দিয়ে শ্যাডো করলেন। তারপর দুই হাত প্রসারিত করে ধরলেন। এক হাতে ব্যাট, আরেক হাতে হেলমেট। এভাবেই বিপিএলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির সেলিব্রেশন করলেন তানজিদ হাসান তামিম।

চট্টগ্রাম হচ্ছে ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবালের (বড় তামিম) শহর। আর বড় তামিমের ঘরের মাঠে গতকাল ঝড় তুললেন ছোট তামিম (তানজিদ হাসান তামিম)। ৬৫ বলে খেললেন ১১৬ রানের তান্ডব এক ইনিংস। ক্যারিশম্যাটিক এই ইনিংসে ৮টি ছক্কা ও ৮টি চার হাঁকিয়েছেন। সেঞ্চুরি পূরণ করেন মাত্র ৫৮ বলে।

তানজিদ হাসানের কালকের ইনিংসটি বিপিএলের চলতি আসরে সেরা ইনিংস। তবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই ইনিংসটি পঞ্চম স্থানে থাকবে। যদিও আরও দুটি ১১৬ রানের ইনিংস আছে বিপিএলে। তার একটি ক্রিস গেইলের, অন্যটি লেন্ডল সিমন্সের। সব আসর মিলে বিপিএলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ হচ্ছে ১৪৬ রানের, মালিক ক্যারিবীয় তারকা ক্রিস গেইল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪১ করেছেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংসও গেইলেরই। ১২২ রান করে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের ইনিংস সাব্বির রহমানের।

তানজিদ তামিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে গতকাল ঘরের মাঠে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটে ১৯২ রানের পাহাড় গড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১৯৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১২৭ রানেই আটকে যায় খুলনা টাইগার্সের ইনিংস। ৬৫ রানের এই বিশাল জয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে গেল বন্দরনগরীর দলটির। ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে তাদের পয়েন্ট এখন ১৪। ফরচুন বরিশালকে টপকে এখন তালিকায় তৃতীয় স্থানে চট্টগ্রাম।

কালকের এই হারে খুলনার প্লে-অফের সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল। কারণ পয়েন্ট তালিকার তিনে থাকা চারে থাকা ফরচুন বরিশালের পয়েন্ট ১২। খুলনার এখন আছে ১০। শেষ চারে পৌঁছাতে হলে তাদের সিলেটের বিরুদ্ধে যেমন জয় পেতে হবে তেমনি অন্য ম্যাচে কুমিল্লার বিরুদ্ধে বরিশাল যেন বড় ব্যবধানে হেরে যায় সেই কামনাও করতে হবে।

সাগরিকায় কাল চট্টগ্রামবাসীকে মুগ্ধ করেছে চ্যালেঞ্জার্স তারকা ওপেনার তানজিদ তামিমের সৌরভ ছড়ানো ব্যাটিং। কী চমৎকার -অসাধারণ, আগ্রাসি স্ট্রাইলে ব্যাটিং। তার এক একটি ছক্কায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যেন গর্জন উঠছিল। প্রতিটি ছক্কাই এত বড় বড় ছিল মনে হচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো পিঞ্চহিটার বাইশগজ কাঁপাচ্ছেন।

শুরু করেছিলেন চতুর্থ ওভারে টাইগার্স স্পিনার নাসুম আহমেদকে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মেরে। দ্বিতীয় ছক্কাটি ছিল অসাধারণ। উইন্ডিজ দীর্ঘকায় তারকা জেসন হোল্ডার বল স্ট্রেট দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন। নিজের তৃতীয় ছক্কায় মারেন মাহমুদুল হাসান জয়ের বলে। ডিপ মিডউইকেট দিয়ে করেন স্লগ সুইপ। ৮৫ মিটার লম্বা এক ছক্কা।

তামিমের হাত থেকে রক্ষা পান খুলনার আগ্রাসি পেসার মুকিদুল হক মুগ্ধও। স্কোয়ার দিয়ে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন। আরিফ আহমেদের বলে পঞ্চম ছক্কা। তারপর নাসুমের বলে নিজের ষষ্ঠ ছক্কাটি হাঁকান। শেষের দুটি ছক্কাই হাঁকিয়েছেন আরিফের ওভারে। তার হাঁকানো ৮টি চারও ছিল খুবই নান্দনিক।

ক্যারিশম্যাটিক এক সেঞ্চুরি দিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোয়ার হয়ে গেছেন তানজিদ তামিম! ১১ ম্যাচে ৩৪.৭২ গড়ে ৩৮২ রান করেছেন। স্ট্রাইকরেটও দুর্দান্ত-১৩৬.৪২!

অথচ এই তামিমকেই টিম কম্বিনেশনের কারণে এক ম্যাচ বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আর এই বাদ পড়াটাই যেন তামিমকে আগ্রাসি করে তুলেছে। বিশ্রামের আগে ৭ ম্যাচে তামিম করেছিলেন মাত্র ১৪২ রান। গড় ছিল ২০.২৯। অথচ ফিরেই চার ম্যাচে ৬০ গড়ে করেছেন ২৪০ রান। বিশ্রামটা কি তাহলে শাপেবর হয়েছে? তামিমের ভাষ্য, ‘আমি এভাবে কখনো চিন্তা করি না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা ভালো মনে করেছে, সেটা করেছে। হয়তো এটা আমার জন্য ভালো হয়েছে।’

সর্বশেষ খবর