শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৩

চট্টগ্রামের বাতাসে ধুলার দূষণ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাতাসে ধুলার দূষণ

চলছে শুষ্ক মৌসুম। চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে সড়ক, নালা-ড্রেন। সঙ্গে আছে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িও। ফলে চট্টগ্রাম নগরের সড়কগুলোতে এখন উড়ছে ধুলাবালি। ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক বাতাস। বাড়ছে অসহনীয় যন্ত্রণা, ভোগান্তি। সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।     

জানা যায়, নগরের সড়কে পানি ছিটাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক)  ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি সুইপিং গাড়ি কিনেছিল। তাছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ৮ জুন এক কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা দুটি ‘সুইপিং গাড়ি’ দিয়েছিল চসিককে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধুলাবালি পরিষ্কারে সক্ষম গাড়ি তিনটিই বর্তমানে নষ্ট। অন্যদিকে, ওয়ার্ড ভিত্তিক ঝাড়–দার থাকলেও নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার না করার অভিযোগও আছে। ফলে নগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে ধুলাবালি থেকেই যায়। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দীকি বলেন, ‘নগরের ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিচ্ছকর্মীরা নিয়মিত ঝাড়– দিয়ে থাকে। তবে উন্নয়ন কাজ চলছে এমন সড়কে ধুলাবালির মাত্রা হয়তো একটু বেশি। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’ ইউএসটিসির চিকিৎসক ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ধুলাবালি বেশি মাত্রায় উড়ে। ফলে বাতাসও দূষিত হয়। এ কারণে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি বাড়ে। এ সময় এলার্জিজনিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়।  তাছাড়া শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, হাঁপানি, ফুসফুস সমস্যাসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তাই এ সময় সবার মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।’ অভিযোগ আছে, বর্তমানে নগরের আগ্রাবাদ পোর্ট কানেক্টিং রোড, এক্সেস রোড, নয়াবাজার বিশ্ব রোড থেকে ফইল্যাতলী, বহাদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক, বহদ্দার হাট থেকে মোহরা এবং আরাকান সড়ক সংস্কার কাজ চলমান। তবে এসব কাজ ধীরগতিতে চলায় ভোগান্তি বাড়ছে। শহরের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এসব সড়কে তাই ধুলাবালির পরিমাণও বেশি।  জানা যায়, সড়কের ধুলাবালি বৃদ্ধির কারণে সামাজিক সংগঠন ‘কল্যাণ’, ‘তরুণ প্রজন্ম’সহ বিভিন্ন সংগঠন বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি পালন করে। ‘কল্যাণ’ এর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আগ্রাবাদ এলাকার কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ এক সঙ্গে চলছে। এখানে ধুলাবালির পরিমাণ অতিমাত্রায়। তাই আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পথচারী ও যাত্রীদের কাছে বিনামূল্যে ৫০০ মাস্ক বিতরণ করি।’

 


আপনার মন্তব্য