Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:২৩ অনলাইন ভার্সন
পাহাড় সেজেছে সোনালী ধানে
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:
পাহাড় সেজেছে সোনালী ধানে
bd-pratidin

সবুজ পাহাড়ের বুক জুড়ে সেজেছে জুমের সোনালী ধান। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে চারদিকে জুমের ফসলের সমারহ। সোনালী ধানের উল্লাসে হাসছে পাহাড়। সে হাসিতে যেন হাসছে জুমিয়ারা (কৃষকরা)। কারণ পার্বত্যাঞ্চলে এবছরও জুমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই জুমিয়াদের চোখে মুখে এখন আনন্দের উচ্ছ্বাস। পাহাড়ের জুম ক্ষেতে সবেমাত্র শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা উৎসব। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা উৎফুল্ল মনে ব্যস্ত জুমের পাকা ধান কাটতে। জুমিয়াদের ঘরে উঠছে জুমের সেই সোনালি ফসল। একই সাথে ধুম পড়েছে মারফা, বেগুন, ধানি মরিচ, ঢেঁড়শ, কাকরোল, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তোলার কজেও। 

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবিকার প্রধান উৎস জুম চাষ। উচ্চ পাহাড়ে ঢালে বিশেষ পদ্ধতি চাষ করা হয় বলে এর নাম জুমচাষ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মধ্যে শুধু তিন পার্বত্য জেলা- অর্থাৎ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এ চাষাবাদ করে থাকে। জুমি চাষীরা বছর শেষে অর্থাৎ পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালে গাছ-পালা- বন-জঙ্গল কেটে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। গাছ-গাছালি পরিষ্কার করার পর জুম চাষে উপযোগী করে তোলা হয় স্থানটি। এপর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়া জুমের মাটিতে গর্ত খুঁড়ে এক সঙ্গে ধান, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রকম বীজ বপন করে থাকে। আর এসব জুমের ধান আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই পেকে থাকে। তারপর শুরু হয় জুমের ফসল তোলার কাজ । সে সময় মারফা, কাঁচা মরিচ, চিনার, ভূট্টো পাওয়া যায়। ধান পাকে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে। সব শেষে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তোলা হবে তুলা, তিল ও যব। তবে একটি স্থানে একবার জুম চাষ করা হয়। পরে বছর জুমচাষ করার জন্য নতুন কোন পাহাড় খুঁজে নিতে হয় চাষীদের। 

স্থানীয় জুমচাষী লক্ষীসোনা চাকমা জানান, জুমে বীজ বপনের ৫ মাস পরিচর্যা ও রণাবেণের পর ফসল পাওয়া যায়। কিন্তু পাহাড় ধসের কারণে অনেক ফসলি জমি বিলিন হয়ে গেছে। তবে যেসব জমি অক্ষত ছিল, সেগুলোতে ফলনও হয়েছে বেপক।  
রাঙামাটি কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী  কর্মকর্তা শান্তিময় চাকমা জানান, পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মধ্যে যারা জুম চাষ করে থাকে তারা যাতে উচ্চ ফলনশীল ধান ও সবজির আবাদ করতে পারে সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। এ মৌসুমে উপযুক্ত জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের কারণে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আশা করি এবছর খাদ্য সংকট হবে না জুম চাষীদের। 
অন্যদিকে, পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর কত একর জায়গায় জুম চাষ হয়- তাঁর সঠিক পরিসংখ্যান তথ্য আজও জানতে পারেনি কৃষি বিভাগ । তবে জুম চাষের জন্য ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড় ও প্রকৃতি বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। 

এব্যাপারে রাঙামাটির জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পবন কুমার চাকমা জানান, পাহাড় ধস ও বন উজারের কারণে আগের তুলনায় পার্বত্যাঞ্চলে জুম চাষ কমে এসেছে। কারণ আমরাদের সমতলে আদলে চাষাবাদ করতে উৎসাহিত করছি। তাই এবছর রাঙামাটি জেলায় জুম চাষ হয়েছে মাত্র ৫াজান ৯০হেক্টর। যার লক্ষ্যমাত্র ধারা হয়েছে ১.৮মেট্টিক টন। এরই মধ্যে পাহাড়ে জুম কাটার ধুম পরেছে। ইতিমধ্যে ৫৮ ভাগ জুম কাটা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, সাধারণত রাঙামাটি প্রায় ১২টা জাতের জুমে ধান চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে মেরুন, গেলং, রাঙ্গি, কবরক, কামারং, বিনি, আমিং, তুরকি, ছড়ই, সুরি, মধুমালতি ও সোনাই চিকন উল্লেখযোগ্য। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা প্রর্যাবেক্ষণ করে দেখেছি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও জুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি এবছর কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow