Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০
হুমায়ূন স্পর্শে সোনারকাঠি
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সাহিত্য-নাটক-চলচ্চিত্র যেখানেই হাত দিয়েছেন সেটাই পরিণত হয়েছে সোনায়। আজকের অনেক তারকা শিল্পীকেই গড়ে তুলেছেন তিনি। তার নাটকে অভিনয় করে অনেকেই হয়েছেন সোনারকাঠি, পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। কলম জাদুকরের জন্মদিনে ফিরে দেখা সেসব অভিনয়শিল্পীরা হলেন...
হুমায়ূন স্পর্শে সোনারকাঠি
যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়... ছবি : জাকারিয়া সৌখিন

আসাদুজ্জামান নূর

হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম টিভিনাটক 'প্রথম প্রহর'র কয়েকটি মাত্র সংলাপে দেড় মিনিটের ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। তার অভিনয় মনে ধরে যায় হুমায়ূন আহমেদের। এরপর প্রযোজক মোস্তাফিজুর রহমানের 'এইসব দিনরাত্রি' ধারাবাহিক নাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। শুরু হলো অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের উত্থান। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে নূর নানা ভঙ্গিতে আসতে লাগলেন। 'এইসব দিনরাত্রি'র রফিকের পরে এলেন 'কোথাও কেউ নেই'র বাকের ভাই হয়ে। বাকের ভাই এমন একটি চরিত্র যার ফাঁসির রায়ে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সভা হয়েছে। এরপর নূরকে একে একে দেখা গেল অদ্ভুত সুন্দর সব চরিত্রে। 'অয়োময়'র মীর্জা সাহেব, 'মাটির পিঞ্জিরা'র নান্দাইলের খুনি ইউনূস, 'শঙ্খনীল কারাগার' ছবির কলেজপড়ুয়া বেকার যুবক, 'আগুনের পরশমণি'র মুক্তিযোদ্ধা নূর, 'চন্দ্রকথা' ছবির দাম্ভিক জমিদার প্রভৃতি।

 

আবুল খায়ের

প্রয়াত অভিনেতা আবুল খায়ের আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত টিভিনাটকের ছোটখাট চরিত্রে অভিনয় করতেন। 'এইসব দিনরাত্রি'র সুখী নীলগঞ্জ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করে হুমায়ূন আহমেদের নাটকে আবুল খায়েরের যাত্রা শুরু। প্রথম দিকে এই চরিত্রটি ছোট হলেও পরে তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে নাট্যকার চরিত্রটির পরিধি বাড়িয়ে দেন। এরপর জীবদ্দশায় আবুল খায়ের হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত সব নাটকেই অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য হলো- 'বহুব্রীহি' নাটকের দাদা, 'আজ রবিবার' নাটকে বাবা প্রভৃতি।

 

আলী যাকের

মঞ্চের নিয়মিত অভিনেতা ছিলেন আলী যাকের। টিভিনাটকে কাজ করলেও আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত খুব একটা সুপরিচিত তিনি ছিলেন না। 'বহুব্রীহি' নাটকে পাগলাটে মামার চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান আলী যাকের। সারা দেশের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মামা। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে একটু পাগলাটে ধরনের চরিত্র হলেই ডাক পড়ত আলী যাকেরের। 'আজ রবিবার' ধারাবাহিকেও আলী যাকেরের অভিনয় অনেকের মনে আছে।

 

মোজাম্মেল হক

প্রয়াত অভিনেতা মোজাম্মেল হকের কাশি শুনেই হুমায়ূন আহমেদ তাকে পছন্দ করে ফেলেন। 'অয়োময়' নাটকের ছোট মীর্জার লাঠিয়াল হানিফের চরিত্রের মধ্য দিয়েই মোজাম্মেল হকের আসন পোক্ত হয়। ছোট মীর্জার সঙ্গে কথা বলতে গেলেই হানিফের কেশে নেওয়ার ভঙ্গিটি বিজ্ঞাপনেও ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময় 'খাদক' নাটকের খাদক চরিত্রে অভিনয় করেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। 'কোথাও কেউ নেই' নাটকে সুবর্ণার মামা চরিত্রসহ হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটকেই পরে অভিনয় করেন মোজাম্মেল হক।

 

আবুল হায়াত

হুমায়ূন আহমেদের এক অবিস্মরণীয় চরিত্র মিসির আলী। 'অন্যভুবন' নাটকে আবুল হায়াত অভিনয় করেন মিসির আলী চরিত্রে। এখনো মিসির আলীর কথা মনে হলেই সবার আগে ভেসে ওঠে এ চরিত্রে আবুল হায়াতের অভিনয়। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে পরবর্তীতে আবুল হায়াত হয়ে উঠেন অপরিহার্য অভিনেতা। 'অয়োময়' নাটকের গরিবি হাল থেকে উঠে নতুন জমিদার হোক আর অন্যান্য নাটকে বাবার চরিত্রেই হোক, শেষের দিকের কাজ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের সব নাটকেই আবুল হায়াত অভিনয় করেছেন।

 

বিপাশা হায়াত

বাবা আবুল হায়াতের হাত ধরে নাটকের শুটিং দেখতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল বিপাশা হায়াতের। 'অয়োময়' নাটকে ছোট মীর্জার শালীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিপাশাকে সুযোগ দেন হুমায়ূন আহমেদ। এ নাটকে মনে রাখার মতো অভিনয় করেছিলেন বিপাশা। এই একটি নাটকই বিপাশাকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর হুমায়ূন আহমেদের আরও অনেক নাটকেই অভিনয় করেছেন বিপাশা। তবে বিপাশার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন 'আগুনের পরশমণি' ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে।

 

জাহিদ হাসান

'আজ রবিবার'-এ চশমা পরা আহ্লাদি কণ্ঠে কথা বলা আনিসের চরিত্রে অভিনয় করে সারা দেশে জাহিদ হাসান জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এরপর হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও চলচ্চিত্রের নিয়মিত অভিনেতা হয়ে যান জাহিদ হাসান। 'সবুজ সাথী' নাটকে লাঠিধরা পাগলা মফিজের চরিত্র, 'শ্রাবণ মেঘের দিনে' ছবিতে ঘাতক মতি, 'আমার আছে জল' ছবিতে জামিলসহ অসংখ্য মজার মজার চরিত্রে জাহিদ হাসান অভিনয় করেছেন।

 

মাহফুজ আহমেদ

অভিনেতা হিসেবে মাহফুজ আহমেদ ছোটখাট চরিত্রে অভিনয় করলেও হুমায়ূন আহমেদই তাকে নিয়ে আসেন লাইমলাইটে। 'কোথাও কেউ নেই' নাটকের একটি চরিত্রে অভিনয় করে মাহফুজ আহমেদ সুপরিচিত হয়ে উঠেন। 'শ্রাবণ মেঘের দিন' আর 'দুই দুয়ারী'-তে অভিনয় করে তিনি পান তুমুল জনপ্রিয়তা। একটা সময় হুমায়ূন আহমেদের নাটক মানেই মাহফুজ আহমেদের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য।

 

মেহের আফরোজ শাওন

'আজ রবিবার' নাটকে হুমায়ূন আহমেদ শাওনকে কঙ্কা চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দেন। এই চরিত্রটিই তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তবে অভিনেত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পান তিনি 'শ্রাবণ মেঘের দিন' ছবিতে অভিনয় করে। হুমায়ূন আহমেদের জীবনসঙ্গী হওয়ার পর শাওন অভিনয় করেন তার প্রতিটি ছবি আর বেশির ভাগ নাটকে।

 

চ্যালেঞ্জার

ক্ষণজন্মা এই অভিনেতার স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ। তার ভিতরের অভিনেতা সত্তাকে হুমায়ূন আহমেদই বের করে আনেন। চ্যালেঞ্জারকে নিজের অসংখ্য নাটকে অভিনয় করিয়েছেন তিনি। তাকে একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে বিকাশের সব সুযোগ দিয়েছিলেন। বাবা কিংবা পাগলাটে ধরনের চরিত্রে অনবদ্য হয়ে উঠেছিলেন চ্যালেঞ্জার।

 

ডা. এজাজুল ইসলাম

'শ্রাবণ মেঘের দিন'র ঢুলি চরিত্রে ডা. এজাজের অভিনয় এখনো দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। হুমায়ূন আহমেদ এই অভিনেতাকেও ভিন্ন আঙিনা থেকে এনে দুর্দান্ত সব চরিত্রে অভিনয় করিয়ে দর্শকপ্রিয়তা দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ যত কাজ করেছেন তার ৯৫ শতাংশ নাটক-সিনেমাতেই তার অসাধারণ উপস্থিতি রয়েছে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow