শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:০১

শাস্তির বদলে পুরস্কারই পেলেন সেই শিক্ষক!

বাইজিদ ইমন, চবি:

শাস্তির বদলে পুরস্কারই পেলেন সেই শিক্ষক!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রভোস্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ ওঠা শিক্ষক লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসীকে স্যার এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়। 

জানা গেছে, সোমবার (১২ নভেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসীকে নিয়োগ দেন। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা সংক্রান্ত ভুল বা অনিয়মের আশ্রয় নিলে শিক্ষকের বিরুদ্ধ্ব তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা ৭৫ নম্বরে নেয়ায় বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে নজিরবিহীনভাবে অধ্যাপক ড. গোলাম কবিরকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য। এ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতির কিছুটা বিচ্যুতি ঘটলেও ৭৫ নম্বরের পরীক্ষার জন্য নিয়ম অনুযায়ী চার ঘন্টা সময় দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। ফলে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা ৭৫ নম্বরে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম কবিরকে বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করেন। 

২৫ নম্বরের টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ১০০ নম্বরে নেয়ায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রহমান নাসির উদ্দিনকে শাস্তি স্বরুপ সতর্ক করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এই শাস্তির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করে পরে প্রত্যাহার করে নেন। 

অথচ অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যাশনাল কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরের বাংলা প্রশ্নের বদলে বৃটিশ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত ৩০ নম্বরের ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন। এ পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ১০১, ১০২, ১০৩ নম্বর রুমের পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন কুদ্দুসী।  তার এই মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়ে যায় ন্যাশনাল কারিকুলামের ইংরেজি মাধ্যমের ৪১৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের গত ৬ নভেম্বর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। অধ্যাপক কুদ্দুসীর কারণে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে এক দিনের পরিবর্তে ১০ দিন লেগে যায় ইউনিট কর্তৃপক্ষের।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এত বড় অনিয়ম করার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি এ ঘটনা তদন্তে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। উল্টো তাকে বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদে নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নুর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য আমাকে আদেশ দিয়েছেন। আমি সে অনুযায়ী চিঠি পাঠিয়েছি।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য