শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২২:০২
প্রিন্ট করুন printer

হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঢাবি শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত, মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঢাবি শিক্ষার্থীদের

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সেশনজট মোকাবেলায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে হল থাকার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না’ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইন্সটিটিউটগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষায় উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য বলা হয়েছে।

তবে হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আগে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় এসে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না-এমন যুক্তি তাদের। এছাড়াও অনেকের হলের বাহিরে থাকার মত আর্থিক সামর্থ নেই বলেও জানান তারা। 

তবে, এই ‘সাময়িক কষ্ট’কে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স-এর পরীক্ষাসমূহ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক সময়ে এবং কম বিরতি দিয়ে এক দিনে দু’টি করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

এদিকে, হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সমালোচনা করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইকরাম খান বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু হল না খুললে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়বে। তাই প্রশাসনকে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে শুধু অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়া হোক। পর্যায়ক্রমে যাদের পরীক্ষা শুধু তাদের হলে রাখা যেতে পারে।

তবে, শিক্ষার্থীদের এই ‘কষ্ট করাকে খারাপ না’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজামান। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেকের আবাসিক অসুবিধা আছে, সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনা জীবনের ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকির চেয়ে কষ্টটা খারাপ না। আমাদের কাছে, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন ও স্বাস্থ্য সর্বাগ্রে। কষ্ট জীবনে কোনো কোনো সময় করতে হয়। তবে স্বাস্থ্য বা জীবনের ঝুকি কোনোক্রমেই গ্রহণ করা যায়।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা হচ্ছে, তারা বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কেন পিছিয়ে থাকবে?’   

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর