শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:১২

জি কে শামীম আসেন সাইরেন বাজিয়ে

অনলাইন ডেস্ক

জি কে শামীম আসেন সাইরেন বাজিয়ে

রাজধানীর নিকেতন থেকে অভিযান চালিয়ে সাত দেহরক্ষীসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র‍্যাব। এসময় তার কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক, নগদ ১০ কোটি টাকা ও প্রায় ২শ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করে র‌্যাব। 

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিকেতন থেকে শামীমকে আটক করে র‌্যাব।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ আটক হওয়া জি কে শামীমের চলাফেরা অনেকটাই কমান্ডো স্টাইলের। আগে-পিছে মোটরসাইকেল ও জিপে চড়া রক্ষীবাহিনীর পাহারায় নিকেতনে আসা-যাওয়া করতেন সাইরেন বাজিয়ে। থাকতো পুলিশের পাহারাও। 

নিকেতনের যে অফিস থেকে শামীম আটক করে তা পুরোটাই আবাসিক এলাকা। নিকেতনের আবাসিক অফিসে যখন শামীম আসতেন তখন আশপাশের সবাই টের পেয়ে যেতেন। কেননা তার পাহারায় সবসময় তিনটি মটোরসাইকেলে ৬ জন দেহরক্ষী থাকতেন। শামীমের গাড়ির সঙ্গে থাকতো আরও দুটি কালো রঙের জিপ গাড়ি। সাইরেন বাজাতে বাজাতে রাস্তা দিয়ে গাড়িবহরসহ এগিয়ে যেতেন শামীম। তার গাড়ি গন্তব্যে (অফিসের সামনে) না পৌঁছানো পর্যন্ত রাস্তায় নামতে পারতো না অন্য কোনো গাড়ি। 

জি কে শামীমের সম্পর্কে এসব তথ্য জানাল স্থানীয়রা।

শামীমের কার্যালয়ের পাশের ভবনের এক কেয়ারটেকার জানান বলেন, প্রভাবশালী এই ঠিকাদার শামীম সাহেবের চালাচল ছিল পুরো রাজকীয়। তিনি যখন এখানে আসতেন, সবাই টের পেয়ে যেত। বিশাল দেহরক্ষী নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে তিনি আসতেন।

তিনি আরও বলেন, অফিসের সামনে তার গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রসহ দেহরক্ষীরা তার চারদিকে ঘিরে রাখতো। আর সিনেমার স্টাইলে গাড়ি থেকে নামতেন শামীম সাহেব। একবার তার গাড়ি আসার সময় আমাদের স্যারের গাড়ি গ্যারেজ থেকে অর্ধেক রাস্তায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু তার দেহরক্ষীরা আমাদের সেই গাড়ি আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিল।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাত ২-৩টার দিকেও শামীম সাহেব এই অফিসে আসতেন। গভীর রাতে তিনি যখন আসতেন তার গাড়ির আওয়াজে সবার ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু কারও কিছু বলার সাহস ছিল না। 

শামীম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তিনি রাজধানীর প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। 

জি কে শামীম এক সময় ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক। পরে দল বদলে যোগ দেন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগে। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। ধীরে ধীরে দলের পদ বাগিয়ে হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী নেতা, বাগাতে থাকেন সরকারি টেন্ডার। প্রতিটি সরকারি কাজের টেন্ডার ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এ কারণেই এক সময় তিনি ‘টেন্ডার শামীম’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

একসময় বিএনপির বড় বড় নেতাদের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেত জি কে শামীমের ব্যানার-পোস্টার। এখন শোভা পায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ পোস্টার-ব্যানার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

গত জাতীয় নির্বাচনের সময় শামীম আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়ে ছিলেন।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর