শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৫০
প্রিন্ট করুন printer

নারায়ণগঞ্জে সেই আলোচিত হকার ইস্যুতে ১৭ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে সেই আলোচিত হকার ইস্যুতে ১৭ জনের নামে মামলা
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জে হকার ও মেয়র আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মেয়র আইভী ও বিএনপিপন্থীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন নিয়াজুল। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, মেয়র আইভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ঠিকাদার আবু সুফিয়ান, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মাকসুদুল আলম খোরশেদ, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন, হান্নান সরকার, মেয়র আইভীর ছোট ভাই আলী রেজা উজ্জল, মেয়র আইভীর ভাগিনা মিনাজুল কাদির মিমন, অব্যাহতিপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার কামরুল হুদা বাবু, বিএনপি নেতা সরকার আলম, হাজী নেওয়াজ, সৈকত মেম্বার, মোতালেব, ফারুক, লিপু, আমিনুল ইসলাম ও মাসুম।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ফুটপাতে বসতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হকার ও আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষে শহর রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সেদিন বিকেলে সংঘর্ষ চলাকালে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে যাওয়ার পথে সায়েম প্লাজার সামনে তার উপর হামলা চালায় আইভী সমর্থকরা। আত্মরক্ষার্থে নিয়াজুল পিস্তল আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরলে তাকে গুরুতর আহত করে। এ সময় তারা তার সঙ্গে থাকা লাইসেন্সকৃত ইতালির তৈরি পয়েন্ট ৩২ বোরের পিস্তল যার বোর নং এফ-৩৩৬২২ ছিনিয়ে নেয়। সাথে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ২ লাখ টাকা। 

নিয়াজুল জানান, সেদিনের সংঘর্ষে আমার উপর হামলা চালায় মেয়র আইভীর সমর্থকরা। এ হামলায় এখনো আমি অসুস্থ হয়ে আছি। ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি মেয়র আইভীর ভাই ও সমর্থকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার লিখিত দিলেও সেটা গ্রহণ করেনি পুলিশ। তবে পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করে। আইনের আশ্রয় পেতে অবশেষে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংর্ঘষের ঘটনায় গত বছরের (২০১৯) ৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৯ জন নেতার বিরুদ্ধে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করে সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার। 

মামলায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করে আসামি করা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেব লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন, চঞ্চল মাহমুদ ও যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খানকে। তাদের বিরুদ্ধে মেয়রকে হত্যার চেষ্টা, জখম, নাশকতা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়।  

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামী ২০২১ সালের ২২ মার্চ মামলাটির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শাহ জামান বলেন, কাগজপত্র হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর