Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০১৮ ২৩:৩৯

স্বেচ্ছাসেবকদের বেপরোয়া লাঠিচার্জ থেকে অঘটন

সাতকানিয়ায় পদদলনে মৃত্যু

মুহাম্মদ সেলিম, সাতকানিয়া থেকে ফিরে

স্বেচ্ছাসেবকদের বেপরোয়া লাঠিচার্জ থেকে অঘটন

৫০ হাজার মানুষের ওপর স্বেচ্ছাসেবকদের বেপরোয়া লাঠিচার্জ থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কবির স্টিল অ্যান্ড রি রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) ইফতারি ও টাকা বিতরণ আয়োজনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ঘটনার শিকার নারীসহ তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত সোমবারের ওই পদদলনের ঘটনায় শিশু ও নারীসহ নিহত হন ১০ জন। আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। তদন্তসংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নলুয়া ইউনিয়নের কাদেরিয়া মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানার মাঠে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের আয়োজনের মতো জায়গা থাকলেও ঘটনার দিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। অতিরিক্ত চাপ এড়াতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় আঘাত এড়াতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন নারীরা। কিন্তু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়ায় পদদলনের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই ঘটনার জন্য আটটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইফতারি ও টাকা নিতে আসা নারীদের চাপ এড়ানোর জন্য বেপরোয়া লাঠিচার্জ, ছোট মাঠ, সরু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, আয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি লোক সমাগম, প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবকের অভাব, ইফতারি ও টাকা বিতরণের বিষয়টি অতি প্রচার, স্থানীয় লোকজনকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া অন্যতম।

 

নলুয়া এলাকার এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রতি বছর স্থানীয়দের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো। তারা প্রতি বছর এ আয়োজনে অংশ গ্রহণ করে অনেকটা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার স্থানীয় অনেককে নিয়োগ না দিয়ে বাইরে থেকে স্বেচ্ছাসেবক আনা হয়। মূলত তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’ ওই ঘটনায় আহত নূর আয়েশা (৫০) সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন যুবক লাঠিপেটা করলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পথ ছোট হওয়ায় পালাতে পারিনি। পরে কয়েকজন নারী পালাতে গিয়ে আমার গায়ের ওপর পড়ে।’

জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসহুদুল কবির বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।’ সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, ‘ইফতার বিতরণ আয়োজনে কেএসআরএমের গাফিলতি ও ত্রুটি ছিল।’


আপনার মন্তব্য