শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৯

মাদকাসক্ত ও বিবাহিত বিপ্লবই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকাসক্ত ও বিবাহিত বিপ্লবই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি!

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় পান থেকে চুন খসলেই হামলে পড়ে। স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ আর আওয়ামী লীগ নেই, দলবল-ক্যাডার নিয়ে চলে ভয়ঙ্কর হামলা। একজন আর দুজন নয়-শতাধিক নেতা-কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। নির্মম হামলায় অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে কষ্টে জীবন পার করছেন। যার নাম শুনলেই কামরাঙ্গীরচরের মানুষ আঁতকে ওঠেন, তার নাম পারভেজ হোসেন বিপ্লব। যার বিরুদ্ধে শুধু সন্ত্রাসী কর্মকান্ডই নয়- এলাকায় চিহ্নিত ইয়াবাসক্ত এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। সেই পারভেজ হোসেন বিপ্লবকেই বানানো হয়েছে কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। সম্প্রতি উৎসব করে বিয়ে করে সংসারও করছেন, অনেকেই তার বিয়ের দাওয়াতও খেয়েছেন। সদ্য বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও বিতর্কিত বিপ্লবকে থানা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ দেওয়ায় কামরাঙ্গীরচর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এক বছরের জন্য পারভেজ হোসেন বিপ্লবকে সভাপতি ও এম এইচ মাসুদ মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর পরই কামরাঙ্গীরচরের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে একজন ভয়ঙ্কর ক্যাডার, মাদকাসক্ত, বিবাহিত অছাত্রকে থানা সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে।’

সংগঠনের আইন ভঙ্গ করে ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পদবঞ্চিত করে শুধু  অর্থের লোভে এই পদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করেন তারা। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘মুখে তাদের অপকর্ম বললেই বাড়িতে এসে হামলা করবে, তা-ব চালাবে। ওদের ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। বিবাহিত ও মাদকাসক্ত এমন ভয়ঙ্কর ছেলেটিকে বানানো হলো সভাপতি। তাহলে ভালো এবং মেধাবী ছেলেরা কীভাবে ছাত্ররাজনীতি করবে।  কে চাইবে ওর মতো এক মাদকাসক্ত ছেলের অধীনে রাজনীতি করতে। 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট হাজারীবাগ এলাকার ভাগলপুর লেনের বাবুল মিয়ার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করে বিপ্লব। ওই বিয়েতে উকিল দেওয়া হয় ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আলীফ হোসেনকে।

মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে আমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু বিপ্লবের বিষয়ে মেহেদী হাসান পীড়াপীড়ি করেছেন এবং উপর থেকে চাপ ছিল। এখন আমরা কী করব। বিষয়টি নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে কথা বলেন।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচর থানায় তিনজন প্রার্থী ছিল, তিনজনই বিবাহিত বলে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এবং সাজানো ছবি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিবাহিত হওয়ার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। এই তিনজনের বাইরে কেউ প্রার্থী ছিল না বলেই বানিয়েছি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর