শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০৬

ঝুঁকিতে বরিশালের নৌপথ

বিভাগের ২৭ রুটে নাব্য সংকট, স্থায়ীভাবে বন্ধ অনেক

রাহাত খান, বরিশাল

ঝুঁকিতে বরিশালের নৌপথ

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২৭টি নৌপথের ৪৭০ কিলোমিটারজুড়ে বেশ কিছু চর-ডুবোচর জেগেছে। অনেক নৌপথ নাব্য সংকটের কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। নদী বহুল বরিশালে নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুবিধার্থে একটি প্রকল্পের আওতায় এই ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খননের পরিকল্পনা করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় বিভাগের ছয় জেলায় নতুন ৩টি লঞ্চঘাট, ১১টি কার্গো ঘাট, ৩৮টি খেয়াঘাট এবং ৩টি পর্যটন ঘাট নির্মাণ ছাড়াও ৬০টি লঞ্চঘাটের উন্নয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দর ও যশোর-খুলনা এবং ভারতের হলদিয়া বন্দরে পণ্য পরিবহনের জন্য ঝালকাঠির ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গাবখান চ্যানেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলেও চ্যানেলটির ভূমিকা অপরিসীম। চ্যানেলটির সর্বনিম্ন প্রশস্ততা ১২৫ মিটার। কিন্তু এই চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে চর জেগেছে। ডুবো চরের কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌ চলাচল। অনেক সময় জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে গাবখান চ্যানেলের নৌ চলাচল। এভাবে বরিশাল বিভাগের ৩১টি নৌরুটের ১ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা রুটসহ ২৭টি নৌপথের ৪৭০ কিলোমিটারের বেহাল দশা। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় অনেক নৌরুট বন্ধ হয়ে গেছে স্থায়ীভাবে। নদী বহুল বরিশালের নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বাড়াতে এবার সব নদী পথের নাব্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।  গত মঙ্গলবার বরিশাল সার্কিট হাউসে ‘বরিশাল বিভাগের নদীসমূহের নাব্য বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা হ্রাস, জলাভূমি বাস্তপুনরুদ্ধার, সেচ ও ল্যান্ডিং সুবিধাদী বৃদ্ধি করে নদী ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাই’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বরিশাল বিভাগের ৩১টি নৌপথের মধ্যে ৪টিতে নাব্য সংকট নেই। বাকি ২৭টি নৌপথ সচল রাখতে ৪৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে খনন প্রয়োজন।

এর মধ্যে ৪২ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং ১৭০ মিলিয়ন ঘনমিটার করা হচ্ছে ৭ বছর মেয়াদি সংরক্ষণ ড্রেজিং। যেসব নৌরুট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সেসব রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং যেসব রুটের বিভিন্ন স্থানে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সেসব পয়েন্টে করা হবে সংরক্ষণ ড্রেজিং। স্থানীয় জনগণ এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা সাপেক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর এনভায়ারনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (সিইজিআইএস) এই ২৭টি নৌরুটে সমীক্ষা চালিয়েছে। এখন এই প্রকল্পে সরকারের অনুমোদন পেলেই ২৭টি নৌরুটের ৪৭০ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

একই প্রকল্পের আওতায় বিভাগের ৬ জেলায় নতুন ৩টি লঞ্চঘাট, ১১টি কার্গো ঘাট, ৩৮টি খেয়াঘাট ও ৩টি পর্যটন ঘাট নির্মাণ এবং ৬০টি লঞ্চঘাটের উন্নয়ন করার কথা বলেন বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

ওই কর্মশালা শেষে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নদী মাতৃক বরিশালে এখনো নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলে নৌ পরিবহনে আরও গতি আসবে বলে তিনি জানান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর