রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

নতুন বিপাকে চিংড়ি রপ্তানিকারকরা

হিমায়িত কনটেইনার সংকটে আটকে গেছে ৫৫০ কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

নতুন বিপাকে চিংড়ি রপ্তানিকারকরা

হিমায়িত কনটেইনারের অভাবে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি রপ্তানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ দিনে মোংলা বন্দর দিয়ে চিংড়ি রপ্তানি করা যায়নি। জানা যায়, শিপিং কোম্পানিগুলো চীন থেকে মালামাল রপ্তানিতে ব্যস্ত থাকায় দেশে হিমায়িত কনটেইনার সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে সময়মতো চিংড়ি রপ্তানি করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের ‘ক্রয় চুক্তি’ বাতিলের আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা।  বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এস হুমায়ুন কবির জানান, ২০ জুনের পর থেকে বন্দরে হিমায়িত কনটেইনারের সংকট দেখা দিয়েছে। শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দেনদরবার করলে তারা জুন মাস পর্যন্ত কনটেইনার দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বর্তমানে জুলাই মাসেও কনটেইনার না পাওয়ায় খুলনা জোনের ৪০টি চিংড়ি কোম্পানিতে প্রায় ছয় হাজার টন চিংড়ি ও চট্টগ্রাম জোনের ২০টি কোম্পানিতে আরও দুই হাজার টন রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি আটকে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ চিংড়ি রপ্তানি করা না গেলে কোম্পানিগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ ছাড়া এ চিংড়ি রপ্তানি করতে না পারলে বাজার থেকে তারা নতুন চিংড়ি কিনতেও পারবেন না। এতে চাষিরাও দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জানা যায়, খুলনা জোন থেকে রপ্তানিকৃত চিংড়ির ৮৫ শতাংশ যায় নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে। মোংলা বন্দর থেকে ফিডার ভেসেলে (ছোট জাহাজ) চিংড়ির কনটেইনার নেওয়া হতো সিঙ্গাপুরে। সেখানে থেকে মাদার ভেসেলে ওই কনটেইনার ইউরোপের দেশগুলোতে পাঠানো হতো। কিন্তু বর্তমানে হিমায়িত কনটেইনারের অভাবে চিংড়ি রপ্তানি করা যাচ্ছে না। রপ্তারিকারকরা জানান, কভিডে চীন থেকে রপ্তানি অনেক কমে গিয়েছিল। ধাক্কা সামলে দেশটি বর্তমানে তাদের রপ্তানি বহু গুণ বাড়িয়েছে। ফলে সেখানে কনটেইনারের চাহিদা থাকায় শিপিং কোম্পানিগুলো চায়নামুখী হয়েছে। ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল পারভেজ বলেন, গত বছর যেসব কনটেইনার ২০০০-২৫০০ ডলারে ভাড়া পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই কনটেইনার ১০ হাজার ডলারেও পাওয়া যায় না। কনটেইনার সংকটের সমাধান না হলে বড় ধরনের বিপাকে পড়তে হবে।