শিরোনাম
বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

জামানত নেই বহু প্রার্থীর

সিলেট বগুড়া বরিশালে দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পাননি

নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট, বগুড়া ও বরিশাল

জামানত নেই বহু প্রার্থীর

সিলেট জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী জামানত খুইয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশের কম পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীরাও রয়েছেন। জেলার ছয় সংসদীয় আসনে ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ২৪ জন। সিলেট-১ আসনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন- ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ফয়জুল হক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ইউসূফ আহমদ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আবদুল বাছিত ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের সোহেল আহমদ চৌধুরী। সিলেট-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গণফোরামের মোকাব্বির খান, সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির ইয়াহিয়া চৌধুরী, তৃণমূল বিএনপির মো. আবদুর রব, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মনোয়ার হোসাইন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. জহির জামানত হারিয়েছেন। সিলেট-৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন- জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র মো. ফখরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনোয়ার হোসেন আফরোজ। সিলেট-৪ আসনে জামানত হারিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির আবুল হোসেন (সোনালি আঁশ) ও ইসলামী ঐক্যজোটের নাজিম উদ্দিন কামরান। সিলেট-৫ আসনে জামানত হারিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির কুতুব উদ্দিন সিকদার, জাতীয় পার্টির সাব্বীর আহমদ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. বদরুল আলম। সিলেট-৬ আসনে জামানত হারিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন হেভিওয়েট প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আতাউর রহমান ও ইসলামী ঐক্যজোটের সাদিকুর রহমান।

দুই এমপিসহ জামানত হারালেন ৪৫ প্রার্থী : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে ৫৮ জন প্রার্থী অংশ নিয়ে সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ৪৫ জন জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেইসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই তালিকায় আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলমসহ জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী ও একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য রয়েছেন। নির্বাচনে সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হন। আর বাকি দুটির একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং অন্যটিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া জেলা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, প্রতিটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তাঁর জামানত ফিরে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসাবে বগুড়ায় ৫৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন তাঁদের জামানতের টাকা ফেরত পাবেন।

বরিশালের ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত : বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন পাঁচটি আসনে। এ ছাড়া জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন এ তালিকায়। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় বলে জানিয়েছেন জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সি। অন্য ১০ জন প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে তাদের জামানত ফেরত নিতে পারবেন।

বরিশাল-১ আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন জাপার ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. তুহিন।

বরিশাল-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন তৃণমূল বিএনপির মো. শাহজাহান সিরাজ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নকুল কুমার বিশ্বাস, জাপার মো. ইকবাল হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাহেব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম।

বরিশাল-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন হারিয়েছেন জামানত। তারা হলেন সাবেক এমপি ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শাহজাহান, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল হক।

বরিশাল-৪ আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন জাপার মো. মিজানুর রহমান ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু।

বরিশাল-৫ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন চারজন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবদুল হান্নান সিকদার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামান ও জাপার মো. ইকবাল হোসেন।

বরিশাল-৬ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে আটজন হারিয়েছেন জামানত। তারা হলেন তিনবারের এমপি জাপার নাসরিন জাহান রতনা, জাসদের মোহাম্মদ মোহসীন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মাইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোশারফ হোসেন, তৃণমূল বিএনপির টি এম জহিরুল হক তুহিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান, মো. শাহবাজ মিঞা ও মো. জাকির খান সাগর।

বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানান, সব প্রার্থীর জামানতের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা আছে। যারা আট ভাগের একভাগ বা তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তারা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে তাদের জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর