শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০২০ ১৩:৪৪

শেষকৃত্য ছাড়াই করোনায় মৃতদের পুড়িয়ে ফেলে চীন

অনলাইন ডেস্ক

শেষকৃত্য ছাড়াই করোনায় মৃতদের পুড়িয়ে ফেলে চীন

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। এরপর সেখানে এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় শহরটি। গত তিন মাসে চীনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৩ হাজার ৩শ’ জন।

করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে চীনজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। পোড়ানোর পর ছাই নিতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের।

জিংঝোও শ্মশানের পরিচালক শেং বলেন, ‘মৃতদের ছাই এখনও আমাদের কাছে। কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা কোয়ারেন্টাইনে বা দূরে কোথাও এবং এখনই ফিরতে পারছেন না।’ খবর রয়টার্সের।

মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় শুধু নিজের বংশগত নামটি জানালেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোনও শেষকৃত্য বা অনুষ্ঠানের অনুমতি নেই।’

১ ফেব্রুয়ারি থেকে চীনে যারা মারা গেছেন, মৃত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন, শোকার্ত পরিবারকে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার পরও তা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মৃতদের শান্তিপূর্ণ পরকাল নিশ্চিত করতে রাত জেগে প্রার্থনা, শোকের সাদা পোশাক পরা, সাজানো কফিনের সামনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আত্মীয়দের ভিড় কিংবা অন্য কোনো ধর্ম অনুযায়ী শবদাহ — এমন কোনও রীতিই পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিবারগুলো মৃত ব্যক্তিদের ছাইয়ের প্রতিও সম্মান জানাতে পারছেন না।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের বাসিন্দা ওয়াং ওয়েনজুন বলেন, ‘আমরা এমন কী করেছি যে আমাদের এমন শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে?’

ওয়েনজুনের চাচা মারা গেছেন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে। তার ছাইয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৫ দিন।

আপাদমস্তক সুরক্ষার পোশাক পরে মরদেহ পোড়ানোর কাজ করতে হয় শেংয়ের কর্মীদের। শেং বলেন, ‘অতীতে তিনদিন পর্যন্ত চলতো প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তারপর আমরা মরদেহ পোড়ানো বা দাহ করার কাজ করতাম। কিন্তু এখন কেউ মারা গেলে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে জীবাণুমুক্ত কার্যক্রম চালায় এবং তারপর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।’

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য