শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ জুলাই, ২০২০ ১৭:১২

করোনা উপসর্গ লুকিয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে গোটা উপজেলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

করোনা উপসর্গ লুকিয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে গোটা উপজেলা
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার দূর্গাপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসর্গ লুকিয়ে অন্য রোগের চিকিৎসা নেয়া নারীর মৃত্যু হওয়ায় ঝুঁকিতে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নার্সসহ চিকিৎসকরা পড়েছেন শঙ্কায়। এমন ঘটনাটি ঘটেছে করোানায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী রহিমা খাতুন (৩৭)-এর মৃত্যুতে। 

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তানজিরুল ইসলাম রায়হানের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ জুন রহিমা খাতুন নামে এক নারী ব্রঙ্কাইটিস রোগের কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হন। পূর্বে থেকে তিনি এই রোগে ভুগছিলেন। তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে গত ৩০ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার্ডও করা হয়। ওইদিনই জানতে পারি তার গায়ে জ্বরসহ করোনা উপস্বর্গ রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, সাথে সাথেই আমরা সন্দেহজনক ভাবে নমুনা সংগ্রহ করে রাখি এবং তাকে ছাড়পত্র দিই। এদিকে, রোগীটি ময়মনসিংহ না গিয়ে সোজা বাড়িতে চলে যান। পরে ওই দিন রাতেই তিনি মারা যান। পরিবারের লোকজন আশপাশের এলাকাবাসী ও অত্মীয় স্বজন নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই পরদিন গত ১ জুলাই জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন করে। এদিকে, গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে মৃত ওই নারীর করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসে।  যে কারণে এখন সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

আরএমও জানান, ২৩ জন নার্স রোস্টার করে ডিউটি করেছে। ৪ জন ডাক্তারও ছিলেন। এছাড়াও কতো রোগী এবং তাদের স্বজন ছিলো ওই তিনদিন। সবাইতো এখন আমরা শঙ্কায় আছি। রোগীর লোকজন জ্বরের কথা আগে জানালে আমরা সেই ভাবে আইসোলেশন বেডে রেখে চিকিৎসা দিতাম। সকলেই সতর্কও থাকতো। নমুনাও আগেই নিতাম। তারপরও আমোদের সন্দেহ হওয়ায় যাওয়ার আগে নমুনা নিয়ে রেখেছিলাম। এখন পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, যারা দাফন কাফন এবং জানাযায় আসা যাওয়া করেছেন সকলেই অর্থাৎ উপজেলাটিই ঝুঁকিতে পড়েছে। 

এমতাবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, হাসপাতালের সকলের নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছি। পাশাপাশি যেহেতু নরমাল দাফন হয়েছে সেজন্য কন্টাক্ট ড্রেসিংও করছি। 

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দূর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়ে গত মঙ্গলবার রিলিজ দিলে ওইদিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে রহিমা নিজ বাড়িতে মারা যান। তবে পরিবারের কেউ করোনায় সংক্রমিত থাকার বিষয়টি জানতেন না বলে জানান। 


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য