শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

নাশ্বেরীর ওসিকে আদালতে তলব

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

নাশ্বেরীর ওসিকে আদালতে তলব

দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষকে নিয়ে থানায় সালিশ করার অভিযোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবিরকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেন আদালত। কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের দেওয়ানি আদালত, নাগেশ্বরী সিনিয়র সহকারী জজ রবিউল ইসলাম গত ১৫ জুন এ আদেশ প্রদান করেন। আগামী ২৪ জুন আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযুক্ত ওসিকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়। তবে এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবির জানান, এ বিষয়ে দুই পক্ষের উকিল থানায় বসে সমাধানের উদ্যোগ নেন যেখানে পুলিশের ভূমিকা ছিল না। তবুও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবশ্যই মহামান্য আদালতের নিকট লিখিতভাবে এর জবাব দেব। আদালত সূত্র জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা বীরেন্দ্রনাথ মোদক বাদী হয়ে নাগেশ্বরী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। এ নিয়ে বিবাদী প্রমোদ গংকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। বিবাদী আদালতে হাজির হয়ে লিখিত আপত্তি দাখিলের জন্য সময়ের প্রার্থনা করেন। পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাদীপক্ষের অনুকূলে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। কিন্তু পরে বাদী আদালতে লিখিত অভিযোগ করে জানান, বিবাদী প্রমোদ গং বিষয়টি থানা পুলিশের মাধ্যমে সুরাহার উদ্দেশ্যে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের কাছে যান। নাগেশ্বরী থানা পুলিশ এ নিয়ে বাদী ও বিবাদীকে তলব করে থানায় সালিশ বৈঠকের অয়োজন করেন। এ সময় বাদী থানা পুলিশকে বিচারাধীন মামলার কাগজপত্র দেখালেও পুলিশ বাদীকে জোরপূর্বক বিরোধ মীমাংসার চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিকী পুনু জানান, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে থানায় সালিশ ডেকে বিরোধ মীমাংসা করার চাপ দেওয়ার অভিযোগ এনে আমার বাদী আদালতে লিখিত আবেদন করেন। পরে আদালত বাদীর অনুকূলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়নে নাগেশ্বরী থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।