যশোরে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে মাগুরার এক কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রিমন (২১) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আটক রিমন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সাদ্দামপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে এবং যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে নির্যাতিতা ওই কিশোরী মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
যশোর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের উপ-সহকারী (এসআই) ইউসুফ আলী জানান, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে খুলনার রূপসা উপজেলার রনি শেখ নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শনিবার তারা দেখা করার জন্য মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে যশোরকে বেছে নেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে তারা যশোরের শেখহাটিতে একত্রিত হন। রনির সঙ্গে মুরাদ নামে তার এক বন্ধু ছিল। তারা তিনজন শেখহাটিতে একটি নিরিবিলি স্থান খুঁজতে থাকেন। এর মধ্যে রনি তার পরিচিত সিটি কলেজপাড়ার বুলেট নামে একজনকে সংবাদ দেন। বুলেট তার আরেক বন্ধু শুভকে নিয়ে তাদের শেখহাটি এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। ওই ছাত্রাবাসে থাকেন রিমন। বেলা ১১টার দিকে ওই ছাত্রাবাসে পৌঁছানোর পর সুযোগ বুঝে রিমন, বুলেট ও শুভ কৌশলে রনি ও তার বন্ধুকে আটকে মারপিট করে তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রাখেন। আর রিমন ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
তিনি আরও জানান, এরপর তারা মেয়েটির বাবাকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু তার বাবার কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রনির বাবার কাছে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করেন। রনির বাবা তাদের ৪০ হাজার টাকা দেন। এরপর বিকেলে এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশ সেখানে হাজির হয়ে রিমনকে আটক করে। তবে বুলেট, শুভ ও রনি পালিয়ে যায়।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আককাছ আলী জানান, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক রিমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/০১ নভেম্বর, ২০১৫/মাহবুব