Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৯ ১৮:২১

স্থবির বাঘাইছড়ির জনজীবন

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

স্থবির বাঘাইছড়ির জনজীবন

এখনো স্থবির হয়ে আছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা। অদৃশ্য আতঙ্কে হাট-বাজারে যাচ্ছেন না পাহাড়ি-বাঙালী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খাগড়াছড়ি-বাঘাইছড়ি সড়কে চলাচল করছে না তেমন কোনো যানবাহন। পাহাড়ি সড়কগুলোতে সেনাবাহিনী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিরি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবুও স্বস্তি ফিরছে না জনসাধারণের মধ্যে। 

গত ১৮মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলার নয়মাইল এলকায় উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারের ঘটনা ভুলতে পারছেনা কেউ। এখনো ধরা পড়েনি প্রিজাইডং কর্মকর্তাসহ সেভেন মাডারের সাথে জড়িত আসামিরা। তবে সেনা অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে সেদিনের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসা) সদস্য মিহির কান্তি দত্তের অস্ত্রটি (নং-৩০৩)। 
শুক্রবার বাঘাইছড়ির মারিশ্যা দীঘিনালা সড়কের দশমাইল এলাকা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের বাঘাইছড়ি পরিদর্শন গত সোমবার অর্থাৎ (১৮মার্চ) উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সেভেন মার্ডারের চারদিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। তারা হলেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) (জেলা ও দায়েরা জজ) আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর, সহকারী পরিচালক (আইন) মো. শাহ পরান। এসময় রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাদিম সোরোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ির সড়ক পথে রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় গিয়ে পৌছান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলটি। বাঘাইছড়ির নয়মাইল এলাকা (ঘটনাস্থল ) পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন গুলিবিদ্ধ পোলিং কর্মকর্তা রত্ম চাকমা (৩০), মো. হুমায়ন রশিদ (২৫) এ্যানথোনি খৃষা (২৭) ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী আনসার  ভিটিপির সদস্য রওশনারা (৫০), জ্যোৎস্না চাকমা (৩২) শারমীর আক্তার (১৮) কোহিনুর আক্তার (৩৫) সাথে কথা বলেন তারা। তাদের চিকিৎসা বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। পরে নিহত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়বসহ ৭জনের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) (জেলা ও দায়েরা জজ) আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর। এসময় নিহতদের স্বজনদের আর্তনাথে শোকের ছায়া নেমে আসে সবার মধ্যে। মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলটি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরণসহ হত্যাকান্ডের সাথে
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানান।

রাঙামাটি বাঘাইছড়ি থানার কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মঞ্জুর আলম জানান, সন্ত্রাসী হামলায় আহত গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী আনসার ভিটিপির সদস্য রওশনারা (৫০), পোলিং কর্মকর্তা জ্যোৎস্না চাকমা কে (৩২) খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত আনসার পরিবারকে সহায়তা প্রদান রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত চার গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ে বাহিনীটির চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মোঃ. সামছুল আলম ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি প্রতিবারকে নগদ এক লাখ টাকা প্রদান করেন। নিহত আনসার আনসার ভিডিবির সদস্যরা হলে- আল আমীন (২০), জাহানারা বেগম (৩৪), বিলকিস আক্তার (৩৫), মিহির কান্তি দত্ত (৩৭)।

এসময় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মো. সামছুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তারমধ্যে প্রথম ধাপে এক লাখ দিয়েছি। বাকী টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনদের আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে চাকরী ও ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জেলা কমান্ডার মো. আব্দুল আউয়াল, জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য