Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:২৬
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:৩০

বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও কর্তৃপক্ষের মামলায় হাজতবাস কৃষকের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও কর্তৃপক্ষের মামলায় হাজতবাস কৃষকের

ময়মনসিংহের ভালুকায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক না হয়েও কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫০) নামের এক কৃষককে হাজতবাস করতে হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কাইচাঁন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিন দিন হাজতবাস করার পর ওই নিরীহ কৃষক জামিনে এলাকায় আসলে বিষয়টি সকলের সামনে আসে। 

এদিকে মঙ্গলবার হয়রানির শিকার ব্যক্তির ভাতিজা রিপন মামলার কপির জন্য ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অফিসে গেলে তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই কৃষক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর গ্রাহক কাইচাঁন গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (জালাল)। যার হিসাব নম্বর ৩৫২-৫৩০০। ওই হিসাব নম্বরের বিপরীতে বিভিন্ন জরিমানাসহ পাঁচ হাজার ৫১টাকা বকেয়া বিল আসে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভালুকার তৎকালিন এজিএম (প্রশাসন) মো. সেকান্দর আলী বাদী হয়ে বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ সালের ৪০, ৩২(১) বিজ্ঞ স্পেশাল প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বিদ্যুৎ আদালতে মামলা (নম্বর ৬৬৩০/১৮) দায়ের করেন। 

ওই মামলায় গত ১৮ এপ্রিল রাতে বিরুনীয়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে নিরীহ কৃষক মো. জালাল উদ্দিন মণ্ডলকে নিজ বাড়ি থেকে মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তিন দিন বিনা অপরাধে তিনি হাজতে থাকার পর এক হাজার টাকা মুসলেকা দিয়ে গত রবিবার সন্ধ্যায় জামিনে ছাড়া পান। 

হয়রানির শিকার ব্যক্তি জালাল উদ্দিন জানান, আমি পল্লী বিদ্যুতের কোনো গ্রাহক নই। অথচ বিদ্যুতের মামলায় আমাকে তিনদিন হাজতবাস করতে হয়েছে। জামিনে বের হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আমার ভাতিজা রিপন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর কার্যালয়ে গেলে অফিসের জিএম মামলার কপি সরবরাহ করতে অস্বীকার করেন এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। কোন ধারায়, কে বাদী, কি অপরাধে আমি হাজত খাটলাম কিছুই জানি না। জিএম যদি মামলার কপিটি দিতো জানতে পারতাম কি কারণে হাজত খাটলাম। 

এ ব্যাপারে মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলকারী ভালুকা মডেল থানার এসআই শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানায় আসামির নাম ঠিকানা দেখেই তাকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ভালুকা) এর এজিএম (অর্থ) তুহিন রহমান জানান, ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে মামলার কপি দিতে জিএম স্যারের নিষেধ থাকায় তা দেয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে জানতে জিএম প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি, অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য