শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৯ ১৬:৩২

গলা কেটে হত্যার পর মাথা নিয়ে থানায় হাজির খুনি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

গলা কেটে হত্যার পর মাথা নিয়ে থানায় হাজির খুনি!
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লিটন ঘোষ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে তার মাথা নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন লবু দাস নামের এক খুনী। আজ দুপুরে উপজেলার গৌর মন্দিরে রোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই খুনীকে গ্রেফতার করে। 

লিটন ঘোষ কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত মতিলাল ঘোষের ছেলে। তিনি নাসিরনগর সদরের ঘোষ পাড়ায় তার বোন মিনা রানী ঘোষের বাড়িতে থেকে বিভিন্ন কাজকর্ম করতেন। ঘাতক লবু উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার পরমানন্দ দাসের ছেলে। তবে খুনের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

লিটনের বোন মিনা রানী ঘোষ জানায়, ঘটনার আগে লিটন ঘোষ বোনের বাড়ি থেকে দুপুরের খাওয়া শেষে নাট মন্দিরের ভিতর ঘুমিয়ে পড়লে লবু দাস (৫০) ঘুমন্ত লিটনকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে । এরপর মাথা ব্যাগে ভরে নিয়ে থানায় গিয়ে হাজির হয় লবু। এ সময় পুলিশ তার ব্যাগ থেকে ধারালো দা ও লিটনের মাথা উদ্ধার করে। 

লিটনের বোন মিনা রানী ঘোষ আরো জানায়, ৫ ভাই ২ বোনের মাঝে লিটন সবার ছোট। তিনি নাসিরনগর থেকে দিনমজুর হিসেবে জীবিকানির্বাহ করতেন। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লবু দাস একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। মাস ছয়েক আগে মতি দাস নামে তার এক চাচাকে হত্যার ঘটনায়ও সে অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সম্প্রতি সে জামিনে ছাড়া পায়। আজকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজিদুর রহমান জানান, লবু ব্যাগে করে থানায় মাথা নিয়ে আসে। সে বলেছে, আরো মাথা আনবে। ধারণা করা হচ্ছে, সে মানসিক রোগী। কি কারণে হত্যা করা হয়েছে সেটা জানার চেষ্টা চলছে। 

এদিকে জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য