Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৩০

নুসরাত হত্যা মামলা : তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত, রবিবার ফের সাক্ষ্য

ফেনী প্রতিনিধি

নুসরাত হত্যা মামলা : তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত, রবিবার ফের সাক্ষ্য

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলমের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় আদালত রবিবার সকাল পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। রবিবার সাক্ষ্যের বাকী অংশ উপস্থাপন করা হবে। সাক্ষ্য শেষে তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে। 

সাক্ষ্য প্রদানে পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম জানান, আমি ১০ এপ্রিল মামলার তদন্তভার গ্রহণ করি। বিভিন্ন সময় বেশ কিছু আলামত গ্রহণ করি। এর মধ্যে রয়েছে একটি কালো রঙের কেরোসিন মিশ্রিত পলিথিন, সবুজ রঙের সেলোয়ারের পোড়া অংশ, ভাটিকের ওড়নার পোড়া অংশ, পাথরের পুতির কাজ করা কালো রঙের বোরকার অংশ, একটির নেভি ব্লু রঙের জুতা, ১০টি পোড়া শলাইয়ের কাঠি। 

তিনি আরও জানান, নুসরাতের পড়ার টেবিল থেকে একটি খাতা জব্দ করা হয়। এই খাতার ১-৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত নুসরাত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার যৌন হয়রানির বিষয় বর্ণনায় লিখে গেছেন। 

তিনি বলেন, ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা গেলে ঢামেকের চিকিৎসকদের নিকট থেকে নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দী সংগ্রহ করা হয়। ১৯ এপ্রিল উম্ম সুলতানা পপির ঘর থেকে তার দেখানো মতে বোরকা উদ্ধার করা হয়। ২০ এপ্রিল সাইফুর রহমান যোবায়েরের দেখানো মতে সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল থেকে তার ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার করা হয়। ২৯ এপ্রিল মামলাটির অন্যতম স্বাক্ষী এমদাদ হোসেন পিংকলের উপস্থাপনা মতে আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের অপপো মোবাইলটি জব্দ করা হয়। ওই সেটে আসামি রুহুল আমিনের সাথে শামীমের ২৬ সেকেন্ডের কথোপকোথনের রেকর্ড রয়েছে। 

এ পর্যন্ত এ মামলায় ৮৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহ আলমের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ৮৭ জনের স্বাক্ষ্য হবে। মোট ৯২জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে মামলার ১৬ আসামিকে জেলা কারাগার থেকে বেলা ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করা হয়।  

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ আনেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলাটি তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে পাশের ভবনের তিন তলার ছাদে নিয়ে সিরাজ উদ দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে নুসরাত।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য