শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:২৯
প্রিন্ট করুন printer

চিরিরবন্দরে ৮ গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

দিনাজপুর প্রতিনিধি

চিরিরবন্দরে ৮ গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

দিনাজপুরে চিরিরবন্দরের নশরতপুর-আলোকডিহি গ্রামের মাঝামাঝি ইছামতি নদীর উপরে বাঁশের তৈরি এই সেতু আট গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। আশ্বাসে আশ্বাসে বছরের পর বছর পার হয়ে গেছে। দেশ স্বাধীনের আজ প্রায় চার দশক অতিবাহিত হলেও সেই বাঁশের সাঁকোই রয়ে গেছে।

একটি সেতু নিমার্ণের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সেতু যে কবে হবে, তা কেউ জানে না।

চিরিরবন্দর-খানসামা উপজেলার আটটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোকের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি সেতুর। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চ মহলে বারবার গিয়ে আশ্বাস মিললেও সেতু কার্যকরে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে। বাঁশের সাঁকোই অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। তাদের প্রায় দুই মাইল পথ ঘুরে আলোকডিহি হয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর, চকগোবিন্দ, আলোকডিহি, ফতেজংপুর, উত্তর পলাশবাড়ী, খানসামা উপজেলার দুবলিয়া, গোয়ালডিহি, লালদিঘী ও নীলফামারীর বড়ুয়াসহ আটটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই বাঁশের সাঁকো।

জনগুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে আজও সেতু নির্মিত না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ফলে কৃষি সমৃদ্ধ এই এলাকায় আজও তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

নশরতপুর গ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক এমএ কারী, আলোকডিহি গছাহার গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক বাবু নন্দীশ্বর দাস জানান, রাজারা তাদের জামিদারি তদারককালে অত্র অঞ্চলের মানুষের নদীপথে চলাচলের সুবিধার্থে ইছামতি নদী দিয়ে যাতায়াত করত। এলাকার প্রজাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এ নদীটি খনন করা হয়েছিল। কালের বিবর্তনে নদীপথের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় ইছামতি নদীটির গুরুত্ব কমে যায়। স্থলপথে যাতায়াতের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় এখানে একটি সেতু নিমার্ণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম শাহ নুরু জানান, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর