শিরোনাম
প্রকাশ : ২ মার্চ, ২০২১ ১৭:৩০
প্রিন্ট করুন printer

নবীনগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

নবীনগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রাইভেটের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যৌন হয়রানির ওই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

অভিযুক্ত মো. আল-আমিন উপজেলার সলিমগঞ্জ এ আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক। সম্প্রতি এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন করে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান সিনিয়র শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, সেই সময়ে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী প্রাইভেট পড়ছিল তাদের সাথে ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্র পর্যালোচনা করেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আল-আমিন ২০১৩ সালে এই স্কুলে শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সেই থেকে বিভিন্ন বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি হাইস্কুল সংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে দুটি রুম ভাড়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে যথারীতি প্রাইভেট পড়ার সময় টেবিলের নিচ দিয়ে এক ছাত্রীর উরুতে স্পর্শ করেন। ওই ছাত্রী বারবার হাত সরিয়ে দিলেও শিক্ষক একই কাজ বারবার করতে থাকেন। সেই সময় এক শিক্ষার্থী বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে টেবিলের নিচ দিয়ে দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করে। ওই শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর সময় তার পাশে কোনো ছেলে ছাত্রকে বসতে দিতেন না। বরাবরই ছাত্রীদের তার পাশে বসিয়ে পড়াতেন। এরকম অন্য ছাত্রীদের সাথেও যৌন হয়রানি করেছে বলে শিক্ষার্থীরা জানায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল-আমীন বলেন, বলার ভাষা নেই। ঘটনার সত্য-মিথ্যা কিছুই বলব না। কমিটির কাছ থেকে আমি এক মাসের সময় নিয়েছি বোঝাপড়ার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয় ব্যাবস্থাপনা কমিটি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তার চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার আবেদন অনুমোদন করায় আমরা ব্যথিত হয়েছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহম্মদ আলী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সভা করি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক স্কুল থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে মর্মে একটি লিখিত আবেদন কমিটির সভাপতি বরাবর দিয়ে এক মাসের সময় চান।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি এটাও একটি শাস্তি। স্কুলের মান-সম্মানের দিক বিবেচনা করে এটি করা হয়েছে। এরই মাঝে যদি তিনি চলে না যান, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন বলেন, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শুনেছি।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর