শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ মার্চ, ২০২১ ১৬:৩১
আপডেট : ১২ মার্চ, ২০২১ ১৬:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

ইঞ্জিন গরম হয়ে কুমিল্লায় বাসে আগুন, মালিক-চালকের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ইঞ্জিন গরম হয়ে কুমিল্লায় বাসে আগুন, মালিক-চালকের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরে বৃহস্পতিবার বাসের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাস চলন্ত অবস্থায় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদেরও নামতে সময় লাগে। এতে দুই যাত্রী নিহত হন। বেশি দগ্ধ হন ৯ জন যাত্রী। লাফিয়ে পড়ে অন্যরা আহত হন।

এদিকে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বাসের মালিক মিজানুর রহমান ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি জহিরুল ইসলাম।

কুমিল্লা দাউদকান্দি ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, বাসের গ্যাসের সিলিন্ডারগুলো অক্ষত রয়েছে। যদি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতো, তাহলে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উড়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পড়তো।

প্রত্যক্ষদর্শী আবু মুসা জানান, হঠাৎ করেই চোখে পড়ে বাসটির সামনের অংশ আগুনে জ্বলছে। কিছুদূর যাওয়ার পরই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দেখলাম যাত্রীরা চিৎকার করছে। কেউ কেউ বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে লাফিয়ে পড়ছে।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, বিস্ফোরণের কোনো আওয়াজ পাইনি। তবে মানুষজনের চিৎকারের কারণে দৌড়ে কাছে যাই। এসময় আগুনের যথেষ্ট তাপ ছিল। কাছে যাওয়ার সুযোগ পাইনি।

বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয় সাড়ে চার বছর বয়সী সাফিন। এসময় আগুনে দগ্ধ হয় তার দাদী রওশন আরা। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, ছেলে সাফিনের লাশ নিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন বাবা সাইফুল ইসলাম। তিনি দাউদকান্দির দলুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি জানান, গতকাল বাসটি নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড থেকে মতলবের নায়ের গাঁও যাচ্ছিল। তার মা ছেলেকে নিয়ে দাউদকান্দি বিশ্বরোডে বাসে উঠে। মা তার বাবার বাড়ি মতলবে যাচ্ছিলেন। গৌরিপুর এলাকায় গিয়ে চলন্ত বাসে আগুন লাগে। বাসের দ্বিতীয় সারিতে বসে ছিলেন ছেলে সাফিন ও মা রওশন আরা। বাসে আগুন লাগলে ছেলেকে নিয়ে বের হওয়ার সময় আমার মা পা পিছলে পড়ে যায়। এসময় ছেলেটা আগুনে পুড়ে যায়।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলেছি। তাদের ধারণা, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নয়, ইঞ্জিন থেকে আগুনের সূত্রপাত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় মারা যাওয়া দুজনের পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার এবং আহত ৯ জনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে চলন্ত বাসে আগুন লেগে শিশুসহ দুই যাত্রী মারা যান।

নিহতরা হলেন-দাউদকান্দির দলুয়াকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে সাফিন (৪) ও দাউদকান্দির তিনপাড়া গ্রামের আহাদ উল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৬০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর