শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৩৯
প্রিন্ট করুন printer

খেতের তরমুজের সাথে শত্রুতা

নাটোর প্রতিনিধি

খেতের তরমুজের সাথে শত্রুতা

সারাদেশে যখন করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ উৎকষ্ঠিত, ঘর থেকে মানুষ বের হয় না। ঠিক সেই মুহুর্তে এক গরীব অসহায় তরমুজ চাষীর খেতে থাকা তার উৎপাদিত তরমুজ কুপিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। 

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দিবাগত গভীর রাতের কোন এক সময় নাটোর সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের ভেদরার বিলে। 

জানাগেছে, উপজেলার ভেদরার বিলের কৃষক তরমুজ চাষী মাছেম আলী। তিনি তার বর্গা নেয়া ৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেন। বেশ কিছু দিন ধরে খেতের বাড়ন্ত তরমুজগুলো চুরি হতে থাকে। তাই তরমুজ রক্ষায় টং বসিয়ে পালা করে দিনরাত পাহারা দেয়া শুরু করে কৃষক মাছেম আলীর ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত শুক্রবার স্থানীয় দুই শিশু চারটি বড় সাইজের তরমুজ চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পরলে আভিভাবককে জানানো হয়। অভিভাবকদের বিচার দেওয়ার অপরাধে শনিবার বিকেলে তরমুজ খেত থেকে ফেরার পথে কৃষক মাছেম আলী ও তাঁর ছেলে আমির হামজাকে ৭/৮ জন মিলে বেধড়ক মারপিট করে। এ বিষয়ে মাছেম আলী নাটোর সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার দিবাগত রাতে টং ঘরে বসে পাহারা দিচ্ছিলেন তরমুজ চাষী মাছেম এবং তাঁর বড় ছেলে সেলিম । হঠাৎ করে ৮ /১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে টং ঘরে হামলা করলে পিতা-পুত্র পালিয়ে গিয়ে জীবন রক্ষা করে। সোমবার সকালে তিনি তরমুজ খেতে গিয়ে দেখেন তার 
ক্ষেতে উৎপাদিত বড় সাইজের প্রায় দুইশ' তরমুজ দুর্বৃত্তরা মাঝখান দিয়ে দাঁ, হাসুয়া অথবা কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে কেঁটে ফেলেছে। অসংখ্য তরমুজের গাছ উপড়ে ফেলেছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের ও কাউন্সিলর এবং ইউপি সদস্যকে জানান। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা বলেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাতের আধারে চাষী মাছেম আলীর খেতের তরমুজ কুপিয়ে রেখে গেছে। তিনি আরো বলেন, কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা চেষ্টা চলছে। 

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জাঙ্গাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
 

এই বিভাগের আরও খবর