২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:১৭

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২৮ শয্যার বিপরীতে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০৬ শিশু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২৮ শয্যার বিপরীতে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০৬ শিশু

কুষ্টিয়ায় শিশুদের জ্বর, ঠান্ডাজনিত রোগের পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২৮ শয্যার বিপরীতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ২০৬ জন শিশু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। যা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। যার ফলে হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অধিকাংশ রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। উপায়ান্তর না পেয়ে অনেকেই ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বরান্দায় ঠাঁই নিয়েছেন। আবার এক শয্যায় গাদাগাদি করে একাধিক রোগীকেও চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। 

এদিকে জনবল সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে শিশু রোগী ভিড় জমাচ্ছে এই হাসপাতালে।

সোমবার বেলা ১০ টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।  

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে শিশুদের জ্বর, ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চাইতে রোগীর সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসা প্রদান করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রবিবার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের প্রবেশ পথে শতশত রোগীর অভিভাবক ও স্বজনরা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন। ওয়ার্ডের ভিতরেও ভিড়। ভিড়ের মধ্যেই চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন শিশু রোগীদের। সোমবার হাসপাতালে বারান্দায় গিয়ে দেখা যায় মায়ের কোলের উপর রেখেই দেয়া হচ্ছে স্যালাইন এবং ইনজেকশন। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও জনবল ও জায়গার অভাব রয়েছে। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আফরোজা পারভীন বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই এখানে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। আর রোগীর লোকজন সাবাই চায় তাদের শিশুকে আলাদা ভাবে ভালো সেবা দেয়া হোক। কিন্তু কেউ বুঝতে চায় না মাত্র ৬ জন সেবিকা কিভাবে এত রোগীর চিকিৎসা সেবা দেবে। এত কিছুর পরও সর্বোচ্চ সেবার প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. নাজিম উদ্দিন জানান, এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়বে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর