১৩ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:৩৭

আশুলিয়ার ডাকাত দলের হানা, স্বর্ণ ও টাকা লুট

সাভার প্রতিনিধি

আশুলিয়ার ডাকাত দলের হানা, স্বর্ণ ও টাকা লুট

সাভারে আশুলিয়ার একটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এক দল ডাকাত বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।বুধবার ভোর রাত ৪টার দিকে আশুলিয়ার কুঁরগাও এলাকার ঢাকা কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির মো. শাহজাহানের দুইতলা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

বাড়ির মালিক মো. শাহজাহান বলেন, আমার দুই ছেলে তাদের স্ত্রী নিয়ে ভাড়া বাসায় বাইরে থাকে। আমি ও আমার স্ত্রী বাড়িতে বসবাস করি। দুইতলার রুমে আগে ছেলেদের পরিবার থাকতো। আমরা স্বামী-স্ত্রী নিচতলার কক্ষে থাকি। কয়েকদিন পূর্বে আমার নাতনি ও তার জামাই তাদের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে বেড়াতে আসে। আজ ভোর রাত ৪টার দিকে হঠাৎ রুমের ভেতর অনেকজন ঢুকে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। 
সবাইকে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে আটকে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। তবে কাউকে মারধর করেনি। এসময় ঘরের সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে ঘণ্টাখানেক পর মেইন দরজা খুলে চলে যায়। পরে সকালে জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় দেখতে পাই। 

মো. শাহজাহানের নাতনী ফারিহা প্রান্তা বলেন, আমাদের সবার সামনে ওরা অস্ত্র ধরে রেখেছিলো। শব্দ করলেই আমার শিশুকে ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছিল বারবার। পরে আমার নানীর হাতের দুই ভরির স্বর্ণের চুরি, চেইন ও আংটি নিয়ে নেয়। আমার শরীরের স্বর্ণও খুলে নেয় তারা। এসময় ডাকাতরা বারবার আমার বড় মামা সোহেলকে খুঁজছিল। উপরতলার তার রুমে গিয়েও খোঁজ করেছে। 

তিনি আরও বলেন, ডাকাতরা সবাই যুবক বয়সের ছিল। তাদের শরীরে আন্ডারওয়্যার ছাড়া কিছুই ছিল না। তবে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকা ছিল এবং সবার পিঠেই ব্যাগ ছিল।

ঢাকা কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান ভূঁইয়া বলেন, পুরো সোসাইটিতে প্রায় ১০০ পরিবার বসবাস করেন। আগে নিরাপত্তার জন্য আনছার সদস্যরা থাকলেও এখন নেই। ফান্ডের অভাবে আনছারদের খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আগের কমিটি কোন হিসাব না দিয়েই চলে গেছে। আমি কয়েকমাস হলো দায়িত্ব পেয়েছি। সোসাইটিতে ঢোকার তিনটি বড় রাস্তায় কেবল তিনজন সিকিউরিটি পাহারায় থাকে। সিসিটিভিও নেই। যে বাড়িতে ঘটনা ঘটছে তার পিছন দিয়ে আরেকটি এলাকায় যাতায়াত উন্মুক্ত। ওখানেও প্রাচীর নির্মাণ করা দরকার। কিন্তু আমি অসহায়। 

তিনি আরও বলেন, এলাকায় গাঁজা, মদ, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম্য অনেক বেশি। এগুলোর কোন প্রতিকার আমরা পাইনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমাদের একটা মোবাইল টিম এখানে পরিদর্শনে আসে। এরপর আমিও ঘটনাস্থলে আসি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। 

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর