প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল আজহায় বগুড়ায় মসলার বাজার চড়াদাম থাকলেও এবারে চিত্র ভিন্ন। চোরাইপথে সব ধরণের মসলা বগুড়াতে আসায় উত্তাপ নেই বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চোরাইপথে শুধু বগুড়াতেই নয় রাজধানী ঢাকাতেও যাচ্ছে এসব মসলা। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সহজেই লাখোপতি হচ্ছে চোরাইকারবারিরা।
জানা গেছে, ঈদকে সমনে রেখে বগুড়ার মসলার বাজারে শুরু হয়েছে মৌসুমি ব্যস্ততা। কোরবানির রান্নার প্রস্তুতিতে এখন থেকেই মসলা কিনছেন অনেক পরিবার। তবে বগুড়ার বাজারে দাম বাড়েনি সব ধরনের মসলার। ঈদকে ঘিরে মসলার চাহিদা থাকলেও পাইকারি বাজারে ক্রেতা কম। কারণ পাশের দেশ থেকে চোরাইপথে মসলা আমদানি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তারা সরাসরি এসব মসলা পাইকারি এবং খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
পাইকারী ব্যবসয়ীরা বলছেন, চোরাইপথে মসলা আসায় পাইকারি বাজারে বিক্রি কমেছে। সরকার যদি এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেয় তাহলে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাবে।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাদা এলাচ প্রকারভেদে প্রতিকেজি ৩ হাজার ৭০০টাকা থেকে ৪ হাজার ৪০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ৩ হাজার ৮ থেকে ৪ হাজার ৬০০টাকা। কালো এলাচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০টাকা। যা আগে ছিল ২হাজার ৪৫০টাকা। এছাড়া দাম কমে প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫২৫টাকা, দারুচিনি ৪৪০টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০টাকা, গোল মরিচ ১ হাজার ৪০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা থেকে ২৪০টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া রাজাবাজার মসলা আমদানি কারক মো. মতিউর রহমান জানান, প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে মসলার দাম বৃদ্ধি পায় তবে এবার সেটা ব্যতিক্রম। জিরা, এলাচসহ প্রতিটি পণ্যের দাম কমেছে। গত কয়েক মাস আগেও মসলার যে দাম ছিল বর্তমানে তা অনেকটা কম।
তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চোরাইপথে মসলা আমদানি করছে। যার ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এছাড়া সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রতি বছর এই সময় বেচাকেনা সরগম থাকে। কিন্তু এ বছর তার উল্টো। কারণ চোরাইকারবারিরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অবৈধভাবে সরাসরি এসব মসলা বিক্রি করছে। এতে করে সহজেই লাখোপতি হচ্ছে চোরাইকারবারিরা। প্রশাসন যদি কালোবাজারি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আমরা বড় ধরণের ক্ষতিরমুখে পড়বো।
ফতেহ আলী বাজারে মসলা কিনতে আসা আঞ্জুয়ারা বলেন, ঈদুল আজহার সময় সাধারণত মসলার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার বগুড়ায় মসলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দাম বাড়েনি, আগের মতই আছে।
এদিকে, হিলি বন্দর দিয়ে উত্তরাঞ্চলে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত জিরা, ছোট এলাচ, কাজুবাদাম, কিসমিস ২৬ হাজার মেট্রিকটনের বেশি আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে জিরা এবং ছোট এলাচের পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে মসলার একটি অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হচ্ছে। যদি আমদানি স্বাভাবিক থাকে। তাহলে ঈদে মসলার দাম ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে থাকবে। চাহিদার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আদা, জিরা, ছোট এলাচ, মহুরি, কিসমিস, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি হচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি