শিরোনাম
১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৮:২৭

পায়রায় আয় ৩২৭ কোটি টাকা

বুয়েটের মাধ্যমে বন্দরের মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পায়রায় আয় ৩২৭ কোটি টাকা

ফাইল ছবি

পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে আয় হয়েছে ৩২৭ কোটি টাকা। এ সময়ে বন্দরে ১৬২টি জাহাজ চলাচল করেছে। বন্দরের মূল চ্যানেলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইড্রোগ্রাফ সার্ভে জাহাজের মাধ্যমে নিয়মিত সার্ভে হচ্ছে। মাল্টিপারপাস ভবন, ওয়ার্কশপ ও পঞ্চমতলা অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া গত অক্টোবর পর্যন্ত পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৮৩.৩৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ সময়ে আর্থিক অগ্রগতি ৭০.৫২ শতাংশ।

সংসদ ভবনে গতকাল অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩৭তম বৈঠকে উপস্থাপিত কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। কমিটির সদস্য শাজাহান খান, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর এবং এস এম শাহজাদা এমপি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে আরও জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) মাধ্যমে পায়রা বন্দরের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, ৬৫০ মিটার জেটি ও ব্যাকআপ ইয়ার্ড নির্মাণ, ছয় লেন বিশিষ্ট ৬.৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, আন্দার মানিক নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, টার্মিনালের যন্ত্রপাতি ক্রয় কাজের বাস্তব অগ্রগতি ১৬.৭০ শতাংশ। রাবার বাগান চ্যানেলের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার ড্রেজিং কাজের বাস্তব অগ্র্রগতি ৩ শতাংশ। এ ছাড়া একটি ব্লাক ইয়ার্ড, দুটি কয়লা ইয়ার্ডসহ ৭০০ মিটার জেটি নির্মাণ কাজ চুক্তি পর্যায়ে চলমান রয়েছে। এ সময়ে বন্দর উন্নয়নে ৩ হাজার ৮৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০০২১-২২ অর্থ বছরে ৩০০ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ২১ কোটি ৫৩ রাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ ৭.১৮ শতাংশ। বাস্তব অগ্রগতি ১৪.৪৪ শতাংশ।
এ ছাড়া নদী কমিশনের কাছে সারা দেশের নদীগুলোর মধ্যে কোন নদীর কী পরিমাণ জমি বেদখল হয়েছে, এর মধ্যে কতগুলো নদী উদ্ধার করা সম্ভব, কতগুলো নদী আশিংকভাবে উদ্ধার সম্ভব, কোনগুলো উদ্ধার করা বেশ সময় সাপেক্ষ হবে- এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, বৈঠকে বিআইডব্লিউটিসির চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিদেশ থেকে এক্সপার্ট এনে কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশে নৌ রুট নির্ধারণ এবং কোন নৌরুটে কোন ধরনের নৌযান সার্ভিস (সি ট্র্যাক, ফেরি) দরকার, তা বের করার সুপারিশ করা হয়। কমিটি ‘কপ এগ্রিমেন্ট’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ভেসেল’ পরিচালনা করা যায় কিনা, যাচাই করার সুপারিশ করে। নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাসে ফগলাইট বা রাডার, লাইটহাউস ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়। সেই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাস করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর