শিরোনাম
২২ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:২৯
অপরিশোধিত তেল নিয়ে নীতিমালা

আমদানি পরিশোধন বিক্রির সুযোগ পেল বেসরকারি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক


আমদানি পরিশোধন বিক্রির সুযোগ পেল বেসরকারি খাত

প্রতীকী ছবি

দেশে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ের ভূমিকার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জ্বালানি খাতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুদ, পরিশোধন, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত সোমবার নীতিমালাটি গেজেট আকারে জারি করা হয়।

বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিপণন শুরুর প্রথম তিন বছর উৎপাদিত ৬০ শতাংশ ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল কিনে নেবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পাশাপাশি জ্বালানি পণ্য রপ্তানিরও সুযোগ রাখা হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালায় বলা হয়, বেসরকারি রিফাইনারিতে উৎপাদিত ডিজেল, অকটেন, পেট্রল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস ওয়েল বিপণন শুরুর প্রথম তিন বছর মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের ৬০ শতাংশ সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিপিসিকে সরবরাহ করতে হবে। বাকি ৪০ শতাংশ জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও নিজস্ব নিবন্ধিত বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবে। তবে বিক্রয় নেটওয়ার্কের স্বল্পতার কারণে কোনো বেসরকারি রিফাইনারিতে ৪০ শতাংশ তেল বিক্রি করতে না পারলে এর যে কোনো পরিমাণ বিপিসির কাছে বিক্রি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে সরবরাহের ন্যূনতম দুই মাস আগে বিপিসিকে বিষয়টি জানাতে হবে। পরের দুই বছরে বেসরকারি রিফাইনারিগুলো তাদের উৎপাদিত তেলের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করতে পারবে। বিপিসির চাহিদা না থাকলে সংস্থাটির অনাপত্তি গ্রহণ সাপেক্ষে বিদেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিও করতে পারবেন বেসরকারি রিফাইনারি মালিকরা।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পরিবহন, সেচ, বিদ্যুৎ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি তেল দেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা, ব্যবহার, মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। বেসরকারি পর্যায়ে অধিক সংখ্যক রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপন হলে দেশে পরিশোধন ও জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নীতিমালায় বলা হয়, উদ্যোক্তাদের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন, বিপণন বা সরবরাহ ও প্লান্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা এ সংক্রান্ত ন্যূনতম পাঁচ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিদেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চুক্তি থাকতে হবে। রিফাইনারি স্থাপনে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে যে কোনো তিন বছরে প্রতি বছর টার্নওভার কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা বা সমমূল্যের মার্কিন ডলারে হতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে দেশে নিজস্ব কিংবা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন বা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে হবে। রিফাইনারিতে নিজস্ব জেটি সুবিধা থাকতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাকে আবেদনের সময় অফেরতযোগ্য ফি হিসেবে ১ কোটি টাকার পে-অর্ডার বিপিসির অনুকূলে প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া উৎপাদিত জ্বালানি তেল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করার লক্ষ্যে নিজস্ব মালিকানায় বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মেট্রিক টন তেল পরিবহনে সক্ষম ৪ থেকে ৫টি কোস্টাল ট্যাংকার থাকতে হবে। যার প্রতিটি ডাবল হাল ডাবল বটম হতে হবে। ৮০০ থেকে ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ৪ থেকে ৫টি বে-ক্রসিং শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার থাকতে হবে। নদীপথে পরিবহন কম হলে সড়কপথে পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্যাংকলরির ব্যবস্থা থাকতে হবে। ট্যাংকলরির ধারণ ক্ষমতা ন্যূনতম ৯ হাজার লিটার থেকে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধিত হয়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলসহ সরকারি বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ইউনিট-২ স্থাপনের প্রকল্প নিচ্ছে বিপিসি যা ২০২৭ সালে নির্মাণ শেষ হবে। এটি হলে আরও ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত তেল আমদানি, পরিশোধন ও বিক্রিতে অংশগ্রহণের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, পেট্রোম্যাক্স ও অ্যাকোয়া রিফাইনারিসহ কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তিতে এরই মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে রিফাইনারি স্থাপনের জন্য ভূমি উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর