Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০১৯ ২৩:১০

স্বাগত মাহে রমজান

মুনাফাখোর ও ভেজালকারীদের রুখতে হবে

স্বাগত মাহে রমজান

বছর ঘুরে মাহে রমজান আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে মহান আল্লাহর উপহার হিসেবে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই পবিত্র মাস ভোগবিলাস, অপচয় এবং অসংযমের পথ থেকে মানুষকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য রচনাকারী আল কোরআন নাজিল হয়েছিল মহিমান্বিত এই মাসে। আত্মসংযমের মাধ্যমে বিশ্বাসীরা যাতে ইন্দ্রিয়, আত্মিক উভয় দিক থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টিবিধানে নিয়োজিত হয় সে উদ্দেশ্যে সব সুস্থ ও সাবালক নর-নারীর জন্য সিয়াম সাধনাকে অবশ্যপালনীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বাসী মানুষ এই পবিত্র মাসে যা কিছু অকল্যাণকর তা পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আত্মসংযমের শিক্ষা দেয় যে রমজান মাস সেই মাসকে দুর্বিনীতরা অসংযম ও লোভ-লালসা পূরণের মৌসুম হিসেবে বেছে নেয়। সিয়াম সাধক বিশ্বাসী মানুষের জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে তাদের অসংযত মনোভাব। রমজানে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রোজাদারদের কষ্টের মুখে ঠেলে দেওয়া সামাজিক দৃষ্টিতে যেমন গর্হিত, তেমন ধর্মীয় দিক থেকেও অপরাধ। প্রতি বছরই মাহে রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ান অসৎ ব্যবসায়ীরা। ধর্মীয় দৃষ্টিতে তা যেমন গুনাহ তেমন আইনের দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। এ গর্হিত কর্মকা- দমন সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। প্রশাসন এ ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে তার ওপর সরকারের সুনামও নির্ভরশীল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও মাহে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চলছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রমজান উপলক্ষে সাহরি ও ইফতারে ব্যবহৃত পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, কেন সিয়াম সাধনার ধর্মীয় কর্তব্য লঙ্ঘন করে ব্যবসায়ীদের একাংশ মুনাফাখোরিতে লিপ্ত হচ্ছে তা খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্টদের সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। রমজানে মানুষ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার খেতে পারে তা নিশ্চিত করতে এ মাসে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা জরুরি। অতীতের দুঃখজনক নজির থেকে বলা যায়, রমজানে যানজট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এ ব্যাপারেও সরকারকে নজর দিতে হবে। পবিত্র ঈদ সামনে রেখে যাতে  কোনোভাবে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অনুভূত না হয় সে ব্যাপারেও হতে হবে যতœবান। রোজাদারদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে দায়িত্বশীলরা সক্রিয় হলে সংশ্লিষ্টরা যেমন গণমানুষের আস্থা অর্জন করবেন তেমন আল্লাহর রহমতও নিশ্চিত হবে। রমজানে আসুন আমরা সবাই আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় আলোকিত হই। সারা বছর এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক।


আপনার মন্তব্য