শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৪০
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৪৮

বলিউডের চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক

বলিউডের চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা
বলিউড মানেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার স্রোত। বলিউডের অন্দরে লুকিয়ে আছে নানা কেলেঙ্কারি, ঘটনা-দুর্ঘটনা। ফাইল ছবি

বলিউড মানেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার স্রোত। বলিউডের অন্দরে লুকিয়ে আছে নানা কেলেঙ্কারি, ঘটনা-দুর্ঘটনা। তার মধ্যে বাছাই করা কিছু ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. গুরু দত্তের আত্মহত্যা না কি দুর্ঘটনা

গুরু দত্ত ছিলেন পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক। পঞ্চাশ ও যাটের দশকে একের পর এক ক্লাসিক হিন্দি ছবির জনক। ১৯৬৪-র ১০ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। মদের সঙ্গে প্রচুর ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে। তার ছেলের দাবি, দুর্ঘটনা। কিন্তু বলিউডের অধিকাংশ লোকের বিশ্বাস, আত্মহত্যা। পারিবারিক জীবনের দুঃখ, কাজের চাপ, আবেগপ্রবণ মনের কারণেই নাকি তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। গুরু দত্ত আগেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তৃতীয়বারে সফল হন।

২. সঞ্জয় দত্ত ও মাদক

মাদক নিয়ে এখন তোলপাড় বলিউড। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত নিজেই জানিয়েছিলেন তার মাদকাসক্তির কথা। ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার কনক্লেভে সঞ্জয় দত্ত জানান, কলেজে পড়ার সময় তিনি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। দশ বছর লেগেছিল তার ওই মাদকের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে। রিহ্যাবে যেতে হয়েছিল। আর বাবা সুনীল দত্ত ছেলের পাশে থেকে তার নেশামুক্তি ঘটিয়েছিলেন।

৩. সঞ্জয় দত্তের অস্ত্র কেলেঙ্কারি

১৯৯৩ সাল। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মুম্বাই। সেই বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত আবু সালেম ও রিয়াজ সিদ্দিকির কাছ থেকে অস্ত্র নিয়েছিলেন সঞ্জয়। তাকে টাডায় গ্রেফতার করা হয়। মুম্বাই বিস্ফোরণেও জড়ানো হয়। সঞ্জয় অস্ত্র নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিয়েছিলেন। মুম্বাই বিস্ফোরণের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও বেআইনি অস্ত্র রাখার দায়ে তার ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

৪. সালমান খান ও কৃষ্ণসার হরিণ

১৯৯৮ সাল। যোধপুরে শুটিং করতে গিয়েছিলেন সালমান খান এবং অন্য তারকারা। তখনই সালমান একটি কৃষ্ণসার হরিণ মারেন বলে অভিযোগ। নিম্ন আদালতে তার পাঁচ বছরের জেল হয়। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা সাইফ আলি খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয় আদালত। সালমান এক সপ্তাহ জেল খাটেন। এখন তিনি জামিনে। তার শাস্তির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।

৫. সালমান খান এবং হিট অ্যান্ড রান

চার বছর পর অর্থাৎ ২০০২ সালে সালমান আবার গ্রেফতার হন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে একজন ফুটপথবাসীকে মারা ও তিনজনকে আহত করার দায়ে। ২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের সেশন কোর্ট সালমানকে দোষী বলে রায় দেয় ও জানায় তিনি মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার পাঁচ বছরের জেল হয়। কিন্তু যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকায় হাইকোর্ট তাকে অভিযোগমুক্ত বলে ঘোষণা করে। এখন মামলা সুপ্রিম কোর্টে।

৬. একের পর এক আত্মহত্যা

সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা বা মৃত্যুরহস্য নিয়ে তোলপাড় বলিউড। কিন্তু শুধু গুরু দত্ত বা সুশান্ত নন, প্রচুর বলিউড তারকা আত্মহত্যা করেছেন। ১৯৯৬-তে সিল্ক স্মিতা, ২০০৫ এ ময়ূরী, ২০০৮-এ কুনাল সিং, ২০১৩-তে জিয়া খান, ২০১৫তে শিখা জোশী, ২০১৬-তে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০১৭তে নীতিন কাপুর এবং তারপর ২০২০-তে সুশান্ত সিং রাজপুত। অবশ্য সুশান্তের মৃত্যুরহস্য নিয়ে এখন তদন্ত করছে সিবিআই।

৭. বলিউড ও মি টু

মি টু মুভমেন্টের আঁচ ভালো করেই লেগেছিল বলিউডে। শুরু হয়েছিল নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তের অভিযোগ দিয়ে। তারপর একের পর এক অভিনেতা মি টু-তে বিদ্ধ হয়েছেন। যেমন অলোক নাথ। টিভি প্রযোজক বিনতা নন্দা অভিযোগ করেন, অলোক নাথ তাকে ধর্ষণ করেছেন। অলোক নাথ অস্বীকার করেন। একাধিক অভিনেত্রীর অভিযোগ, অলোকনাথের হাতে তাদের লাঞ্ছিত হয়ে হয়েছে। মি টুতে বিদ্ধ হয়েছেন কৈলাশ খের, সালমান খান, সাজিদ খান, অণু মালিকরাও।

৮. মাদক ও দীপিকা

সুশান্তের মৃত্যুর পর তদন্ত করতে নেমে মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে। কিন্তু সেখানেই মাদককাণ্ড শেষ হয়নি। সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনসহ চার নায়িকাকে জেরা করে নারকোটিকস ব্যুরোর কর্মকর্তারা। পাঁচ ঘণ্টা জেরার পর দীপিকার ফোন সিজ করা হয়। দীপিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি পার্টির জন্য মাদক জোগাড় করেছিলেন।

৯. সারা আলি খানকেও জেরা

শুধু দীপিকা পাড়ুকোন নয় সারা আলি খান এবং শ্রদ্ধা কাপুরকেও জেরা করেছে নারকোটিকস ব্যুরোর কর্মকর্তারা। সারার বিরুদ্ধেও মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। তার মোবাইলও নিয়ে নিয়েছে নারকোটিকস ব্যুরো। মাদককাণ্ডে এই নায়িকাদের যোগাযোগ নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন দেখা দিয়েছে বলিউডে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর