শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০২০ ১৯:১৫

করোনা-বদলে যাওয়া অন্যরকম এক পৃথিবী

এবিএম জাকিরুল হক টিটন

করোনা-বদলে যাওয়া অন্যরকম এক পৃথিবী
এবিএম জাকিরুল হক টিটন

করোনা ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ-পুষ্পমুকুট বা মুকুটাকৃতির পুষ্প। আকারে সর্বক্ষুদ্র বালুকণার এক হাজার ভাগের এক ভাগ। দেখা যায় অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা। এটি একটি ভাইরাস (রোগজীবানু)। বিগত দুই দশকে নানা বৈশিষ্ট্যে পৃথিবীতে শনাক্তকৃত এবং দেহের জন্য অতোটা মারাত্মক ছিল না।

এবারে ০৮ই ডিসেম্বর ২০১৯ এ চীনের উহানে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেল। পূর্বতন চিকিৎসা কাজ করছিল না। পরীক্ষা চললো ও অনুভব করা এটা করোনার গঠনেই নতুন ও মারাত্মক ভাইরাস। এটার নাম দেয়া হলো Novel (অভিনব) Corona Virus, যার প্রকৃত প্রতিষেধক ও চিকিৎসা জানা নেই কারো। ইউরোপ গবেষণা করলো-তাদর স্টাইলে এর নাম দিল-Covid-19 (Corona Virus Disease-19)। তিন মাসেই এই অভিনব করোনা বিশ্বকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেছে। যার ফলে ভয়ার্ত মৃত্যু মিছিল এবং অভূতপূর্ব বিছিন্নতা ও ভয়ানক একাকিত্ব। করোনা সারা বিশ্বের মানুষকে ঘরে তুলেছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শে পরিবাহিত হয় অন্য ব্যক্তিতে ও বস্তুতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশিতে নির্গত হয়ে সামান্য সময় ভাসমান গতি পায়। তারপরই আশ্রয় নেয় বস্তুতে। ধাতব, আসবাব, পোশাক, কাগজ, খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী, প্রাণীর দেহের নানা অংশে। এক এক জায়গায় এর বেঁচে থাকার কাল এক এক রকম। তবে, যে কোনো ভাবে মুখ ও নাকের এবং চোখের কোনার ছিদ্র দিয়ে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ঢুকে গেলে ঘাপটি মেরে থাকে ২ দিন। তারপর দ্রুত ফাইব্রয়েড তৈরি করে মানে পানিতে ভাসা পিপড়া দলের মত বংশ বিস্তার করে ফুসফুসকে অচল করে ফেলে। নিশ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর ও বন্ধ হতে থাকে। হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। কিডনি বজ্র পাবে কিন্তু কাজ করার ক্ষমতা হারায়। কি ভয়ানক অবস্থা। ভাবায় যায় না সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। শ্বাসের কষ্ট হলে অক্সিজেন দেয়া ও অন্যান্য উপসর্গগত চিকিৎসায় আপাতত করোনার চিকিৎসা। তবে যার মোকাবেলার সাহস থাকবে ও শরীর প্রতিরোধের যথেষ্ট ক্ষমতা থাকবে তিনি বিজ্ঞানের ধারণায় রেহাই পাবেন। এটাই মোটামুটি এক নজরে বিশ্ব আতঙ্ক করোনা।

সারা বিশ্বে করোনার ভয়াবহ বিস্তারের সাথে সাথে বদলে যেতে শুরু করেছে এই চেনা পৃথিবীর অনেক কিছুই।
বিশাল ক্ষমতার ক্ষমতার প্রদর্শন আর ভোগবিলাসের প্রতিযোগিতা পৃথিবীতে কার্যত থমকে গেছে। অপকর্মের নির্ঘুম ও ক্লান্তিহীন ছুটে চলা নতঃশিরে দাঁড়িয়ে পড়েছে। বালিকণার হাজার ভাগের একভাগ জীবানু শক্তি পৃথিবীকে হটাৎ অপরাধ মুক্ত করে ফেলেছে। ধর্ষণ নেই। হত্যা নেই। দলে দলে চলা নেই। মিছিল নেই। মিটিং নেই। মাইকে নেতাদের গলাবাজি নেই। আড্ডা নেই। গোঁয়ারদের চিল্লানী নেই। মদ আসর নেই। জুয়া, ক্যাসিনো নেই। নাচ গান নেই। অস্ত্রবাজী, সন্ত্রাস নেই। পাপিয়া-টাপিয়ায় খরিদ্দা ও মাফিয়া নেই। রাস্তায় পেটের দায়ে হাতের ইশারা নেই। বিমানের টয়লেটে সেক্স নেই। ডাক্তারের কমিশন নেই। উকিলের ঝড়ে বক পড়ার উপরী নেই। বিচারকের ডিসক্রিশনের অযথার্থ ব্যবহার নেই। মোড়লের স্বেচ্ছাচারিতা নেই। করোনাকে দেখে দেয়ার হুমকি নেই। একই রোগের আক্রমণ ও ফলালফল বা চিকিৎসায় রাজা-প্রজার পার্থক্য নেই। আর অনেক কিছুই সকলের জন্য সমানভাবেই নেই। বিশ্বের সব বাঘা মোড়ালের লেজ স্বপুচ্ছদেশে লুকিয়ে রেখে নিজের ও অন্যদের জীবন বাঁচানের যুদ্ধে ব্যস্ত।

এমন অবস্থায় প্রকৃতি নির্মল। সৈকতে খেলছে ডলফিনসহ নানা প্রাণী। যানবাহনের শব্দ নেই বলে পাখি কলকাকলি শুনছে সবাই। পরিবেশে নেই দূষণ। ঘরে ঘরে চলছে প্রার্থনা। সব নাস্তিকরা হয়ে গেছে আস্তিক। সকলে নিজেই করছে নিজের কাজ ঘরে থেকে। মোট কথা সে এক অচেনা অন্যরকম পৃথিবী।

অবশ্যই মানুষ তার চেষ্টা, মেধা আর অধ্যাবসায় দিয়ে এক নতুন ভোরে করোনাকে পরাজিত ও নিধোন করবে। তার পরেও করোনা মুক্ত পৃথিবীটা যেন হয় হিংসা মুক্ত, দূষণমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, সকল অপমুক্ত মানবিক ভালোবাসার অন্য এক পৃথিবী। সবকিছু মুক্ত নির্মল এক সকালের প্রত্যাশায়...।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য