শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪১

উন্নত জাতের মাল্টা চাষে স্বপ্ন বুনছেন রহিম সরদার

রাহাত খান, বরিশাল:

উন্নত জাতের মাল্টা চাষে স্বপ্ন বুনছেন রহিম সরদার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা গ্রামে নিজের জমিতে আধুনিক প্রযুক্তির বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন কৃষক মো. রহিম সরদার।  

৫ বছর আগে মাল্টার কলম লাগানোর পর এখন প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রহিম সরদারের স্বপ্ন। এই সাফল্যে আরো বড় পরিসরে মাল্টার বাগান করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। আর তাকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বরিশালের কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ। 

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই মাল্টা স্বাদে-গুনে অতুলনীয় উল্লেখ করে এই চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান। 

বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা গ্রামের মো. রহিম সরদার পরীক্ষামূলকভাবে ২০১৪ সালের আগস্টে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ২য় শষ্য বহুমুখীকরন প্রকল্পের আওতায় বারি মাল্টা-১ জাতের ৩০টি কলম সংগ্রহ করেন। মাটিতে গর্ত করে সেখানে জৈব সার এবং ইউরিয়া, পটাশ, ফসপেট সার দিয়ে বিশেষভাবে গাছ রোপনের স্থান প্রস্তুত করেন তিনি। এরপর ৩০টি মাল্টার কলম রোপন করেন রহিম সরদার। নিবিড় পরিচর্যা শেষে এক বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন ধরতে শুরু করে। গত ৩ বছর ধরে তার প্রতিটি গাছে মাল্টার ব্যাপক ফলন হতে শুরু করে। একেকটি গাছে ২ শতাধিক ফল হয়। এতে লাভবান হওয়ায় মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারন করার পরিকল্পনা করেন তিনি। মাল্টা চাষ করলে অন্যান্য কৃষকও লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা সফল কৃষক রহিম সরদারের। 

মাল্টা চাষের শুরুটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো বলে জানিয়েছেন রহিম সরদারের সহধর্মীনি মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, শুরুতে মাল্টা চাষে পরিবারের সদস্যদের সমর্থন ছিল না। রহিম সরদার একা একা মাল্টা চাষের শুরু এবং পরবর্তীতে পরিচর্যা করেন। মাল্টা গাছে ব্যাপক ফলন ধরায় পরিবারের সদস্যদের মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। এখন পরিবারের সবাই মাল্টা চাষে সহায়তা করছেন। আশপাশের এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের বাগান দেখতে আসছেন এবং এর চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন। এতে তারা উৎসাহিত হয়ে আগামীতে মাল্টা বাগান করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান মরিয়াম বেগম। 

সম্প্রতি রহিম সরদারের মাল্টা বাগান দেখতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক এবং কৃষি বিভাগের শীর্র্ষ কর্মকর্তারা। সরেজমিন পরিদর্শন করে জেলা কৃষি কর্মকর্তা রামেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, জেলার ১০ উপজেলায় ইতিমধ্যে ১৪৪টি মাল্টা বাগান হয়েছে। ১৪৪টি বাগানে সৃজন (রোপন) করা হয়েছে উন্নত জাতের ৫ হাজার ৫ শ’ ৪০টি মাল্টার কলম। উন্নত জাতের মাল্টাচাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে সব ধরনের সহযোগীতা করার কথা বলেন তিনি। 

রহিম সরদারের মাল্টা বাগানে মুগ্ধ জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই মাল্টা স্বাদে-গুনে অতুলনীয়। উন্নত জাতের মাল্টা চাষে কৃষকদের আরো সম্পৃক্ত করা গেলে তারা লাভবান হবেন। জেলার যে সব উপজেলায় উচু পতিত জমি আছে সেখানে মাল্টা চাষ ছড়িয়ে দিতে পাড়লে অর্থনৈতিক বিপ্লব করা সম্ভব বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। 

বিডিপ্রতিদিন/ ২৩ নভেম্বর, ২০১৭/ ই জাহান


আপনার মন্তব্য