Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ নভেম্বর, ২০১৫ ২৩:৪৭

দেশ চালাচ্ছেন লেডি হিটলার : খালেদা জিয়া

আ স ম মাসুম, লন্ডন থেকে

দেশ চালাচ্ছেন লেডি হিটলার  : খালেদা জিয়া

এনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে এক সুধী সমাবেশে বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজতন্ত্র কায়েম করেছেন। দেশে এখন আইনশৃঙ্খলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। মানুষ আজ মোটেও ভালো নেই, শান্তিতে নেই। জুলুম-অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাজতন্ত্রের জন্য আছেন একজন লেডি হিটলার। তিনি যা হুকুম দিচ্ছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন; তার সৈন্য-সামন্তরা অর্থাৎ প্রশাসন, তারা সেভাবে কাজ করছে। সব কিছু তার কথামতো চলে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, শান্তিতে নেই। তাই তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।

গতকাল ভোর রাতে (বাংলাদেশ সময়)  লন্ডনের পার্ক প্লাজার অডিটোরিয়ামে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। লন্ডন ও ইউরোপ প্রবাসীদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে এটাই মা-ছেলের আনুষ্ঠানিক কোনো বড় জমায়েতে একমঞ্চে প্রথম বক্তৃতা। সভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়েদা রহমানও দর্শক সারিতে বসা ছিলেন। প্রবাসীদের উদ্দেশে বিএনপি প্রধান বলেন, চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লন্ডনে এসেছিলাম। এখন আমি সুস্থ। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছি। পরিবারের সদস্যরা আরও কিছু দিন থাকার আবদার করছে। কিন্তু দেশের মানুষ ভালো নেই। আমাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। দেশে গিয়ে দল গোছানোর কাজকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেব। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে  ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. কে এম এ মালিক, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, অলিউর রহমান, শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, এম এ সালাম, আবদুল হামিদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, আখতার হোসাইন, শহিদুল ইসলাম মামুন, ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ, দেওয়ান মোকাদ্দিম চৌধুরী নিয়াজ, নাসির আহমেদ শাহীন ও ইকবাল হোসাইন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাহিদুর রহমান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সায়েম, হুমায়ুন কবির, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে গত নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।

দেশে বিশৃঙ্খলা চলছে  জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র নেই বলেই একের পর দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এ জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। গণতন্ত্রে ফিরতে হবে। দেশ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছি। এবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। এটা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। ভবিষ্যতে প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি নয়, আমরা একতায় বিশ্বাসী। ক্ষমতায় গেলে প্রবাসীদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে দেশ গঠনের কাজে লাগানো হবে। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিবিসিকে দেওয়া শেখ হাসিনার এক সাক্ষাৎকার তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশে যাব রাজনীতি করার জন্য নয়, প্রতিশোধ নিতে। তিনি দেশ গড়তে আসেননি। তিনি এসেছেন দেশ ধ্বংস করতে। জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকেই দায়ী করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, জঙ্গি জঙ্গি হাসিনাই বলেছেন, কিসের জন্য? বিদেশিদের ভয় দেখানোর জন্য। বোঝাতে চাইছেন আমরা যদি চলে যাই, বিএনপি এলে জঙ্গিদের উত্থান হবে। কিন্তু দেখেন, জঙ্গিদের উত্থান কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় হয়েছে। তারা একটা জঙ্গিকে ধরেনি। আমরা এসে সব জঙ্গিকে ধরেছি। বিচার করেছি। সরকারকে হটাতে ব্যর্থতার জন্য ঢাকা শহরে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আন্দোলন ঢাকায় সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা শহরে বের হলেই গুলি করে। তবে সারা দেশে যে কী আন্দোলন হয়েছে, স্বাধীনতার সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তা হয়নি। আন্দোলন দমাতে পুলিশ গাড়ি পুড়িয়ে সেই দায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর চাপিয়েছে। এ কথা পুলিশ অফিসাররাই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। হুমকি দিয়ে তারা এও বলেছেন, আমরাই তো সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র করেছেন। এসবে কোনো ফল হবে না। বিএনপি কেউ ভাঙতে পারেনি। বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। বিএনপিকে ভাঙা যাবে না।

সত্যি কথাই বলি, এরশাদ তেমন করেননি। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনও কম করেননি, কিন্তু পারেননি। শেখ হাসিনাও পারেননি, পারবেন না।

বেগম জিয়া বলেন, গত সাত বছরে বিএনপির তিন হাজার নেতা-কর্মীকে খুন, এক হাজার ২০০ জনকে গুম, এক হাজার ১২ জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে নিয়ে তিনি বলেন, কত মানুষকে বেনজীর মেরেছে তার হিসাব নেই। বর্তমান সংসদকে অবৈধ অভিহিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এমপি হওয়ার যোগ্যতা নেই এমন অনেককে মন্ত্রী করা হয়েছে। আর বর্তমানে সংসদে কোনো কাজ হয় না, শুধু খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আর জিয়াউর রহমানকে গালাগাল করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বেসামরিক প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে অনেক যোগ্য, মেধাবী কর্মকর্তাকে দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর