Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২২:৪৩

ক্ষোভ ১৪ দলের শরিকদের

রফিকুল ইসলাম রনি

ক্ষোভ ১৪ দলের শরিকদের

কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। এজন্য ধান-চাল কেনায় দুর্নীতি ও সরকারের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন তারা। একই সঙ্গে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ধানে আগুন’ ও সারা দেশ থেকে চাষিদের নির্বাচন করা সম্ভব না হওয়ায় সরাসরি ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না-  দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন তারা। জোট শরিকরা বলছেন, যারা এগুলো বলছেন, তারা আসলে জনবিচ্ছিন্ন। তাই কৃষকের কান্না শুনতে পান   না। আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। আপনারা না পারলে দায়িত্ব দিন, আমরা খুঁজে দেব। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ধানের দাম ১০ টাকা কেজি, অথচ এখনো বাজারে চাল ৬০-৮০ টাকা কেজি। তাহলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের লাভ কার পকেটে যাচ্ছে? কারা সেই মধ্যস্বত্বভোগী? তাদের খুঁজে বের করতে হবে সরকারকেই। মুখোমুখি করতে হবে শাস্তির। সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দিতে হবে।  ধানের দাম না পাওয়া ও শ্রমিক না পাওয়ায় সম্প্রতি টাঙ্গাইলে পাকা ধানের জমিতে আগুন দেন এক কৃষক। ধানখেতে কৃষকের আগুন দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, যারা ধানখেতে আগুন দিচ্ছে তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ কাজ করছে। গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ মুহূর্তে ধান কিনে সরকারের পক্ষে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কম হলেও দ্রুত এর সমাধান কঠিন। আমাদের হয়তো কিছুটা সেক্রিফাইস করতে হবে। সারা দেশ থেকে চাষিদের নির্বাচন করা কঠিন হওয়ায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের এই দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কৃষক ধানের দাম না পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। সরকার কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড করেছে, কৃষি ঋণ দিচ্ছে। তাহলে কেন মন্ত্রীরা বলছেন কৃষক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? যদি কৃষক খুঁজে না পান তাহলে দায়িত্ব দেন, আমরা খুঁজে দেই। ব্যাংকের ঋণ খেলাপিদের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি করলে কেন কৃষকদের জন্য কিছু করতে পারবেন না?

ধানের দাম নিয়ে কোনো অজুহাত শুনতে চান না জোটের অন্যতম শরিক জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, বর্তমানে সাময়িকভাবে চাল আমদানি বন্ধ রাখা, ইউনিয়ন পর্যায়ে শস্য গুদাম তৈরির জন্য ঋণ প্রদান, কৃষক যদি ২০০ মণ ধান বিক্রি করে তাহলে ১০০ মণ সরকারি গোলায় তুলে বাকিটা কৃষকের কাছে সংরক্ষণ রেখে অর্ধেক দাম পরিশোধ করা ও ফড়িয়াদের নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।

জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা ারী বলেন, কৃষকদের কারণেই ধানের বাম্পার ফলন। ধানের দাম না পেয়ে কৃষকরা কষ্ট পাচ্ছেন। কৃষকদের নিয়ে মন্ত্রীদের ‘উল্টাপাল্টা’ কথাবার্তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।

বাংলাদেশের জাসদ-সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ধান মৌসুম শুরু হলে অনেক এলাকায় দলীয় এমপি, নেতার পছন্দের লোকেরা সরকারিভাবে ধান চাল সরবরাহ করে থাকেন। ফলে কৃষক সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিতে পারেন না। ধানের দাম না থাকলেও ধান উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে দাদন ব্যবসায়ীরা কৃষকের বাড়িতে হানা দেয়। দাদন ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, দলীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে কৃষক সরাসরি ধান ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারছে না। ফলে বাম্পার ফলন উৎপাদন হলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের উচিত সরাসরি ধান ক্রয় করার পাশাপাশি কৃষককে সহায়তা দেওয়া এবং চাল কল মালিকরা যেন দাদন দিয়ে কৃষককে জিম্মি করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করা। গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার। এই সময়ে কৃষক মূল্য পাবে না- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


আপনার মন্তব্য