শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৫৫

কারাগারে সন্ত্রাসী খুন, তুচ্ছ ঘটনা না পরিকল্পিত?

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

কারাগারে সন্ত্রাসী খুন, তুচ্ছ ঘটনা না পরিকল্পিত?

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৭ মামলার আসামি অমিত মুহুরী খুনের রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে ধূম্রজালের মধ্যে। কারা কর্তৃপক্ষ ‘তুচ্ছ’ ঘটনা থেকে এ হত্যাকা- হয়েছে বলে দাবি করলেও অমিতের পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অমিতকে। মামলার তদন্ত সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও সবকটি বিষয় সামনে রেখে ঘটনার তদন্তের কথা জানায়।

মামলার            তদন্ত সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ খুনের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে এর তদন্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে খুনে অভিযুক্ত রিপন নাথ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছেন। তাকে রিমান্ডে এনে খুনের পছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা উদ্ঘাটন করা হবে।’ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বলেন, ‘ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এ খুন। এর বাইরে কিছু থাকলে তা তদন্ত সংস্থা খুঁজে বের করবে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘খালি চোখে এটি তুচ্ছ ঘটনা মনে হলেও সার্বিক বিষয় দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পিত হত্যাকা । কারাগারের মতো সুরক্ষিত জায়গায় কীভাবে ইট এলো। সেলে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন রিপন খুন করল- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া অমিত একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার প্রচুর শত্রুপক্ষ রয়েছে। তার হাতেও খুন হয়েছে অনেকে। শত্রুপক্ষের কেউ টাকার বিনিময়ে সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকা  ঘটিয়েছে কিনা, তা বের করতে কাজ করছে পুলিশ।’ মামলার তদন্ত সংস্থা ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষে ছিলেন অমিত মুহুরী, বেলাল ও দেলোয়ার। এর মধ্যে বুধবার জামিনে মুক্ত হন দেলোয়ার। তাই বিকালে চিকিৎসা শেষে সাধারণ ওয়ার্ডে ফেরত আসা রিপন নাথকে ওই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। রিপনকে ওই ওয়ার্ডে স্থানান্তর করায় আপত্তি তোলেন অমিত মুহুরী। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রাতে রিপন ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন অমিতকে। এ খুনের পর থেকেই পরিকল্পিত হত্যাকা  হিসেবে দাবি করছে নিহত অমিতের পরিবার। এজন্য কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার কথাও জানান তারা। অমিত মুহুরীর বাবা অরুণ মুহুরীর দাবি, ‘মামলার হাজিরা দিতে আদালতে এলে তখন নিজের জীবনের শঙ্কার কথা জানান অমিত। অমিত বলেন, তাকে মারার জন্য কোটি টাকার ডিলিং হচ্ছে। এখন তার কথাই সত্য হলো।’ উপকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘অমিত মুহুরীর পরিবার যে অভিযোগ করছে তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকা  কিনা তা বের করা হবে।’ সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বলেন, ‘কারাগারের ভিতরে অনেক নির্মাণকাজ চলছে। ওখান থেকে হয়তো রিপন ইট সংগ্রহ করেছেন।’ চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী অমিতের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে রেলের দরপত্র নিয়ে জোড়া খুনসহ অন্তত ১৭টি মামলা আছে। হত্যা, পুলিশের ওপর হামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইমরানুল করিম ইমনকে খুন করে গ্রেফতার হন অমিত। তার পর থেকেই অমিত কারাগারে ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে খুন হন অমিত মুহুরী। এ ঘটনায় কারাগারের জেলার নাসির আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন; যাতে আসামি করা হয় রিপন নাথকে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর