শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৩২

‘আল্লাহর দলে’র চার জঙ্গি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আল্লাহর দলে’র চার জঙ্গি আটক
জঙ্গিবাদের অভিযোগে গ্রেফতার চারজন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইব্রাহিম আহমেদ হিরোসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। রবিবার রাতে গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন- আবদুল আজিজ (৫০), শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮) ও রশিদুল ইসলাম (২৮)। র‌্যাব বলছে, পিলখানার হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় চাকরিচ্যুতসহ বিভিন্ন বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুতদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে ‘আল্লাহর দল’ নামের এই জঙ্গি সংগঠনটি। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, জঙ্গি সংগঠনটি কথিত ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভাঙার পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক বিন্যাসের ন্যায় সাংগঠনিক কাঠামো গড়েছে। জাতীয় সংসদের সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবদুল মতিন মেহেদী ওরফে মুমিনুল ইসলাম ওরফে মহিত মাহবুব ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে মতিনুল হকের নেতৃত্বে এই জঙ্গি সংগঠন ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানা এলাকা থেকে সদস্য সংগ্রহ হলেও পরবর্তীতে সারা দেশ থেকেই তা সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে আল্লাহর দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৭ সালে মতিন মেহেদী গ্রেফতারের পর ফাঁসির দ প্রাপ্ত আসামি হয়ে টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দী। তার অনুসারীরা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার পথে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। মতিন মেহেদীর অনুপস্থিতিতে ইব্রাহিম আহমেদ হিরো আল্লাহর দলের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এমরানুল হাসান আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন থেকে ভিন্নতর কৌশলে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর ও বাহিনীর অবকাঠামোর আদলে জঙ্গি সংগঠনটি সাংগঠনিকভাবে নিজেদের বিন্যস্ত করছে। সে অনুযায়ী গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নেতৃত্বের বিন্যাস অনুযায়ী, বিভাগ পর্যন্ত ‘নায়ক’ উপাধির মাধ্যমে প্রধানদের চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদকে অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক, যুগ্ম অধিনায়ক এবং সর্বোচ্চ পদকে তারকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। র‌্যাব সূত্র জানায়, সংগঠনটিতে সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের টার্গেট করা হয়। এক্ষেত্রে তারা পিলখানার ঘটনায় চাকরিচ্যুতদের নিজেদের দলে ভেড়াতে কাজ করছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সফল হয়নি। সদস্য সংগ্রহের জন্য ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো মজবুত করার পরিকল্পনা করেছে আল্লাহর দল। পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই জঙ্গি সংগঠনটি চিরকুট ও সরাসরি যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। নতুন সদস্যরা জঙ্গি মতিন মেহেদীকে আমির মেনে শপথ নিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়। সংগঠনটি অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রতি মাসে জাকাত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন, তারা তাদের উপার্জিত অর্থ থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে সংগঠনকে জাকাত দেন। এভাবেই আল্লাহর দলের তহবিল তৈরি করা হয়েছে। কয়েকটি বেনামে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক লাভ এবং আর্থিক মূলধনের একটি বিরাট অংশ নামে-বেনামে এবং নারীদের নামে ব্যাংকে রাখার তথ্য মিলেছে।


আপনার মন্তব্য