Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:০২

প্রকল্প শুরুর ১৪ মাসে অগ্রগতি শূন্য

কাজ শুরুর খবর নেই, ৫৭ কোটি টাকা শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাজ শুরুর খবর নেই, ৫৭ কোটি টাকা শেষ

প্রকল্পের কর্মকর্তারা বিদেশে একাধিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। আড়াই কোটি টাকায় পাঁচটি গাড়ি কিনেছেন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকায় আরও পাঁচটি গাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। এরই মধ্যে ৫৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো প্রকল্পের এলাকাও নির্বাচন করা হয়নি। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর ১৪ মাসে কাজের কিছুই হয়নি। টেকসই বন ও জীবিকা নির্বাহ শীর্ষক ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প চালু করা হয় গত বছর জুলাইয়ে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কাজের কিছুই না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘এটি নিছক অবহেলা ছাড়া কিছুই নয়।’ কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ যেমন প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুত করা, প্রশিক্ষক বাছাই এবং প্রকল্পের এলাকা নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি। তবে প্রকল্পের কর্মকর্তারা গাড়ি কিনেছেন আবার ভাড়াও নিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিখুঁত অবহেলা দৃশ্যমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের তহবিল ব্যবহার করে প্রশিক্ষণের জন্য গত বছরের জুনে বন বিভাগের নয়জন কর্মকর্তা ভারত ও নেপাল সফর করেছিলেন। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ বৈঠকে কমিটির সদস্যরা এজন্য হতাশা প্রকাশ করেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে এবং বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ১৪ মাসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি কিছু হয়নি। কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেননি।’ প্রকল্পসূত্রে জানা যায়, বন ব্যবস্থাপনা ও বনাঞ্চলনির্ভর পেশাজীবীদের অন্যত্র জীবিকার সংস্থান এবং বসবাসের সমন্বয় করার জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় ৬০০ গ্রামের ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৈঠকসূত্রে জানা যায়, প্রকল্প কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রকল্পের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা বলতে পারেননি। সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রকল্পের অগ্রগতি আমাদের প্রত্যাশা থেকে অনেক দূরে।’ মজার বিষয় হচ্ছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) বাতিল করে দিয়েছে। তবে এটি কেন করা হয়েছে সংসদ কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা পরবর্তী বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছি।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, তারা আড়াই কোটি টাকায় পাঁচটি গাড়ি কিনেছেন এবং প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকায় আরও পাঁচটি গাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি এখন শুরু হয়েছে।’ প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা শেখার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। আমি আর কিছু বলতে পারব না।’

জরিমানার মুখে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন : পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই আমিনবাজারে আবর্জনা ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ময়লা ফেলায় ডিএনসিসিকে জরিমানা করার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বলেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ব্যাপারে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ডিএনসিসি পরিবেশ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই আমিনবাজারে আবর্জনা ফেলছে। এভাবে সিটি করপোরেশন পরিবেশ দূষণ করছে। তাই আমরা মন্ত্রণালয়কে সিটি করপোরেশনের ওপর জরিমানা আরোপ করতে বলেছি। তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসিসি সম্পূর্ণ অবৈধ কাজ করেছে। পরিবেশ অধিদফতর এর আগে ওই অঞ্চলে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার জন্য সিটি করপোরেশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। তবে তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। ল্যান্ডফিল্ডে ময়লা না ফেলার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে নোটিস দিতে বলেছি।’ আামিনবাজারের ল্যান্ডফিল্ডটি ২০০৫-০৬ সালে ৫০ একর জমিতে নির্মিত হয়।


আপনার মন্তব্য