Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৫৪

ভারতের গণমাধ্যমে আহ্বান

অবিলম্বে তিস্তা চুক্তি করুন, বন্ধ করতে হবে এনআরসি

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

অবিলম্বে তিস্তা চুক্তি করুন, বন্ধ করতে হবে এনআরসি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা পৌঁছে যাওয়ার পরদিনই গতকাল ভারতের নামকরা সবকটি জাতীয় গণমাধ্যম এক সুরে দাবি জানায়, ‘অবিলম্বে তিস্তা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।’ একই সঙ্গে তারা সম্পাদকীয় মন্তব্যে বলেছে, ‘এনআরসি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে শেখ হাসিনার হাত মজবুত করা প্রয়োজন।’ হিন্দুস্তান টাইমস থেকে টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দুর মতো প্রথম সারির দৈনিকগুলো সম্পাদকীয় নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছে। এদের সবারই মন্তব্য : যেভাবে শেখ হাসিনা ত্রিপুরার সাবরুমের মতো ছোট্ট একটি শহরের পানীয় জল সরবরাহে যে ‘মানবিক’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এর পরে ভারতের পক্ষে তিস্তা-ফেনীসহ সব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি করা উচিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দক্ষিণ ত্রিপুরার ছোট শহর সাবরুম। জনসংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। অনেক দিন ধরেই এখানকার পানি আর্সেনিক দূষিত। এই পানি খেয়ে বহু মানুষ চর্মরোগে ভুগছে। নিকটবর্তী নদী ফেনী। এ নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি ওই শহরে দেওয়া হবে। কিন্তু এই সামান্য সিদ্ধান্তে সাবরুম শহরের বাসিন্দারা যে উপকৃত হবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কূটনীতিবিদ এবং সাবেক হাইকমিশনাররা মনে করেন, সাবরুমে পানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শেখ হাসিনা আদতে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন এবং তা দিয়েছেন ভবিষ্যতের কথা ভেবেই। আগামী দিনে বাংলাদেশিরাও এতে লাভবান হবেন। ফেনী নদীর ওপর যে সেতু নির্মিত হচ্ছে তা শেষ হলেই চট্টগ্রাম থেকে সাবরুমের দূরত্ব হবে মাত্র ৭০ কিমি.। শিগগিরই সাবরুম থেকে আগরতলা পর্যন্ত ট্রেন চালু হতে চলেছে। ট্রায়াল রান হয়ে গেছে। অতি সহজেই চট্টগ্রাম এলাকা থেকে সাবরুম হয়ে বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশ করতে পারবে। তাদের ঢাকা হয়ে আসার প্রয়োজন হবে না। তখন তো বাংলাদেশিরাও সাবরুম শহরে প্রবেশ করলে ওই ফেনী নদীর পানি পান করবে। দ্বিতীয় বিভ্রান্তি রয়েছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে। বাংলাদেশ থেকে যে গ্যাস যাবে সেটা বাংলাদেশের নয়। ভারতেরই গ্যাস বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরা ও উত্তরপূর্বে যাবে। বাংলাদেশ ট্রানজিট হিসেবে কাজ করবে। তাতে যেমন লগ্নি হবে তেমন কর্মসংস্থানও হবে। বাংলাদেশের রাজস্বও বাড়বে। হিন্দুস্তান টাইমস ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট পার্টনারশিপ ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলেছে, নয়াদিল্লির এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের যাবতীয় শঙ্কা দূর করা প্রয়োজন। বলা হয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক সোনালি অধ্যায় হলেও এনআরসি এবং তিস্তা পানি চুক্তি না হওয়াটা একটা সংশয় তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার আট শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। ওই দেশটি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পক্ষে এক আদর্শ স্থান। অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে সংশয়ের বিষয়গুলো দূর করা না হলে অচিরেই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পর্ক’ অংকুরেই বিনষ্ট হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকা ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, ‘এনআরসি ভুলে যান, বাংলাদেশের আর্থিক উন্নতি থেকে শিক্ষা নিন।’ সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, এতদিন ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কেবলমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পাকিস্তানকে উন্নয়নের মাপকাঠিতে পেছনে ফেলেছে। বাংলাদেশ এখন আর দুর্ভিক্ষপীড়িত গরিব দেশ নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। তাই এখন এনআরসি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ এখন কোনো ইস্যু নয়। বরং ভারতের শেখা উচিত বাংলাদেশকে দেখে। দ্য হিন্দু এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একই সুরে মন্তব্য করেছে। ফলে ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে সহমত তৈরি হয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, এটাই শেখ হাসিনার কৃতিত্ব।


আপনার মন্তব্য