শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৯

সংসদে ৮২৩৮ খেলাপির নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে ৮ হাজার ২৩৮ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। খেলাপিদের এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬ হাজার  ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮৩৬ কোটি চার লাখ টাকা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর (টাঙ্গাইল-৬) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী ১০৭ পৃষ্ঠার এই তালিকা তুলে ধরেন। এর আগে গত বছর জুন মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস ভিত্তিক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রিমেক্স ফুটওয়্যার, যার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্রিসেন্ট লেদার  প্রোডাক্টস, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটির ওপরে, তৃতীয় স্থানে রয়েছে রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড, যার ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং সবচেয়ে কম ঋণ মাত্র ১ কোটি টাকা এ আই ইন্ডাস্ট্রিজের। সংসদে প্রদত্ত তালিকায় প্রথম ৫০টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে রিমেক্স ফুটওয়্যার লি., ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যার লিমিটেড, রাইজিং স্টিল লিমিটেড, মোহাম্মদ ইলিয়াম ব্রাদার্স (পিভিটি) লিমিটেড, এস এ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, সামনাজ সুপার অয়েল লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লি., অ্যালোকোট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং, বুলট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বেনট্রেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কম্পিউটার সোর্স লি., রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল লি., বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস লি., লেক্সো লি.,  আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস প্রভৃতি।

ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ২৪ শতাংশ : সরকারি দলের সদস্য মো. হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে জানান, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ২৪ শতাংশ। ইতিপূর্বে বেসরকারি সংস্থা বেশি সুদে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করত। এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয়, ঋণ ক্ষতি সঞ্চিতি ও প্রফিট মার্জিন ইত্যাদি পর্যালোচনা এবং সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করে ক্রমহ্রাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রঋণের সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

দেশে করদাতার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৮ জন : সরকারি দলের সদস্য নাছিমুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করদাতার সংখ্যা ৮ লাখ ২৩ হাজার ২৩১ জন বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোট কর আদায় হয়েছে ৭২ হাজার ৮৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরকারি দলের সদস্য বেগম শামসুন নাহারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, যারা রিটার্ন দাখিল করেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এক বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে : গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত এক বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণের হার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তিনি আরও জানান, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর