শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মার্চ, ২০২০ ২৩:২৭

পাপিয়া দম্পতি ১৫ দিনের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক

পাপিয়া দম্পতি ১৫ দিনের রিমান্ডে
পাপিয়াকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকার পৃথক তিন মামলায় নরসিংদীর জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে ফের ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। র‌্যাবের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার দুজন মহানগর হাকিম রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর মধ্যে বিমানবন্দর থানার জাল টাকার মামলায় রিমান্ডের অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস। আর শেরেবাংলানগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় রিমান্ডের আদেশ দেন মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী। এর আগে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী এবং তাদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা নূরকে বিমানবন্দর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা নূরকে আদালতে হাজির না করার কারণে তাদের রিমান্ড শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করা হয়। অন্যদিকে শেরেবাংলানগর থানার অস্ত্র আইনের মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীর রিমান্ড আবেদন করেন র‌্যাব-১-এর এসআই মো. আরিফুজ্জামান। আর একই থানার মাদক আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদন করেন র‌্যাব-১-এর এসআই খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় এই দুই আসামিকে ১৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই রিমান্ড শেষে গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে তিন মামলায় ১০ দিন করে মোট ৩০ দিন রিমান্ড চাওয়া হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পাপিয়া ও তার স্বামীকে দেশীয় ও বিদেশি মুদ্রার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। শেখ তায়্যিবা নূরের সহযোগিতায় ও পরস্পর যোগসাজশে পাপিয়া, সুমন ও সাব্বির জ্ঞাতসারে জাল মুদ্রা বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে বহন, বিপুল পরিমাণ সংঘবদ্ধ অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে অপরাধ করেছেন মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই, জাল টাকাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও বৈদেশিক টাকার উৎসের অনুসন্ধান, জাল টাকা তৈরিতে এবং দেশের অর্থ পাচারের কাজে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণ, অবস্থান নির্ণয় ও গ্রেফতার, অপরাধ জগতে আসার কারণ এবং পেছনের শক্তির সন্ধান, অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের ব্যবহার, চোরাচালান, অর্থের বিনিময়ে জমি দখল-বেদখল, অনৈতিক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের তথ্য-উপাত্ত উদ্্ঘাটন ও যাচাই-বাছাইকরণ, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি কীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে, পিস্তল কোথায় কী ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়, পিস্তল চোরাচালানের মাধ্যম/রুট এবং চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। এদিকে শুনানিকালে পাপিয়া ও তার স্বামীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাই বিচারক জানতে চান, তাদের (পাপিয়া ও তার স্বামী) কিছু বলার আছে কিনা? তখন পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরী বলেন, ‘তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ড থেকে আমরা এসেছি। আমাদের আইনজীবী ছিলেন। তারা মনে হয় জানেন না আমাদের আবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। মনে হয় এ কারণে তারা নেই।’ এর আগে পাপিয়া ওরফে পিউসহ ওই চারজনকে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট’ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার ওপরে। ওয়েস্টিনের ওই প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট এবং ইন্দিরা রোডে পাপিয়াদের দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট ও কিছু বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করার কথা জানায় র‌্যাব। পরে পাপিয়াসহ গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় জাল মুদ্রা উদ্ধারের একটি মামলা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় আরও দুটি মামলা করা হয় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে।


আপনার মন্তব্য